‌সাগরিকা দত্তচৌধুরি: হৃদযন্ত্রের বাঁ অলিন্দের দেওয়ালে রক্ত জমাট বেঁধে ক্যালসিয়াম জমে বড় শঙ্খের মতো আকৃতি নেয়। সেই সঙ্গে মাইট্রাল ভালভ্‌ ছিল অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ। ফলে গোটা শরীরে শুদ্ধ রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছিল ডায়মন্ড হারবারের সিরাকোলের বাসিন্দা শেখ আকতারের। বাঁ অলিন্দের দেওয়ালে রক্ত ও ক্যালসিয়াম জমে আকার নেওয়া শঙ্খ কেটে বের করার পর কৃত্রিম মাইট্রাল ভালভ্‌ প্রতিস্থাপন করে মৃত্যুপথযাত্রী এই রোগীকে নবজীবন দিলেন এসএসকেএমের কার্ডিওথোরাসিক ভাস্কুলার সার্জারি (‌সিটিভিএস)‌ বিভাগের চিকিৎসকরা। বুধবার, ১৪ আগস্ট পাঁচ ঘণ্টা ধরে রোগীর অস্ত্রোপচার সফলভাবে হয় বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসার ডাঃ শুভেন্দু মহাপাত্রের নেতৃত্বে। রোগীর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে তিনি জানিয়েছেন। আর কিছুদিন পর তাঁকে ছুটি দেওয়া হবে।
ডাঃ মহাপাত্র জানান, রোগীর হার্টের ভালভে জটিল সমস্যা ছিল। চিকিৎসা পরিভাষায় বলে রিউম্যাটিক মাইট্রাল ভ্যালভিউলার হার্ট ডিজিজ। বাঁ অলিন্দে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে। অর্থাৎ ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ রক্ত শিরার মাধ্যমে বাঁ অলিন্দে আসে। সেই রক্ত মাইট্রাল ভালভের মধ্য দিয়ে বাঁ নিলয় হয়ে পাম্পিং করে গোটা শরীরে সরবরাহ হয়। এই রোগীর মাইট্রাল ভালভের রাস্তা এতটাই সঙ্কীর্ণ ছিল যে বাঁ অলিন্দ থেকে রক্ত যাচ্ছিল না বাঁ নিলয়ে। আরও কিছুদিন এভাবে থাকলে হার্ট ফেলিওর হয়ে রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল। ঠিকমতো রক্ত সরবরাহ না হলে কারও কারও ক্ষেত্রে বাঁ অলিন্দে রক্ত জমাট বাঁধে। এই রোগীর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। রোগীর বাঁ অলিন্দে রক্ত জমে তার ওপর ক্যালসিয়াম জমতে জমতে এক সেন্টিমিটার পুরু হয়ে আলাদা চেম্বার হয়ে গিয়েছিল। শঙ্খের মতো আকৃতি নেয়। রোগীকে বাঁচাতে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে মাইট্রাল ভালভ্‌ পরিবর্তন করা দরকার ছিল। কিন্তু তার আগে দরকার ছিল পুরু আকৃতির শঙ্খ বের করার। 
এই অস্ত্রোপচারে সহায়তা করেছেন চিকিৎসক শিল্পা বসু রায়, আজিল জোসেফ, রাহুল বোস। তাঁরা জানান, রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজে সাধারণত ছোটবেলা থেকেই ভালভের সমস্যা তৈরি হয়। বয়স বাড়লে সমস্যা আরও বাড়ে। এই রোগীর চিকিৎসা চলছিল অনেক দিন ধরেই। ৪০ বছর বয়সে মারাত্মক আকার নেয়। ওষুধে কাজ হচ্ছিল না। ফলে হাঁটাচলা, শোয়া, বসা, কাজকর্ম করা তো দূরের কথা, ঠিকমতো শ্বাস নিতেই পারছিলেন না। হার্টের ভালভ্‌ পুরো খারাপ হওয়ায় অবিলম্বে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ছিল। 
শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘এই রোগীর কেসটা আমার কাছে বিরল। কারণ আমার অভিজ্ঞতায় এখনও পর্যন্ত কোথাও রিপোর্ট হয়েছে বলে জানা নেই। ‌১০০ জন মাইট্রাল ভালভ্‌ খারাপের রোগী হলে তার মধ্যে  দু–একজনের এরকম পাওয়া যায়। অস্ত্রোপচারের সময় বাঁ অলিন্দের দেওয়াল ছিঁড়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারত। অস্ত্রোপচারের পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top