আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ কিছু যৌনকর্মী রয়ে গেছেন। কিছু দালালও উপস্থিত। বাড়ি ফিরতে পারেননি। কিন্তু লকডাউনের বাজারে ‘‌খদ্দের’‌–দের দেখা নেই সোনাগাছিতে। গলির যৌনকর্মীদের কথা বাদই দিন। নাইট লাভার্স, রুপশ্রী, প্রেম বন্ধন এর মতো খানদানি বাড়িগুলিতেও খদ্দেরের অভাব চোখ টানছে। যে বাড়িগুলিতে বড় বাবুদের ভিড় লেগে থাকে, তারাই এখন করোনা আতঙ্কে মুখ সরিয়ে নিয়েছেন। রাজস্থান, জয়পুর, দিল্লি, মুম্বই, ফিরোজাবাদ থেকে আসা সামান্য কিছু যৌনকর্মী একে–অপরের সঙ্গে গল্প করে দিন কাটাচ্ছেন। বেশীরভাগই দেশের বাড়ি ফিরে গেছেন। যারা বাড়িতে ফিরতে পারেননি তাদের অবস্থা সত্যিই শোচনীয়। সোনাগাছি প্রায় ফাঁকা। 
নোটবন্দির সময় পরিস্থিতি ছিল অন্য। আচমকা নোট বাতিল ঘোষণা হওয়ার পর অনেক ‘‌বাবু’‌–ই ব্যাঙ্কে লাইন দেওয়ার বদলে পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের বান্ডিল সোনাগাছিতে এসে উড়িয়ে চলে গিয়েছিলেন। ফায়দা পুরোপুরি লুটেছিল সোনাগাছি। শুধু তাই নয়, যে বিয়ার মিলত ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়, সেই বিয়ার তখন সোনাগাছিতে বিক্রি হয়েছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। আর ‘‌খদ্দের’‌–রাও পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকা চালিয়ে দেওয়ার জন্য সেই দামেই বিয়ার কিনেছিলেন। শুধু বিয়ার কেন, মদের দামও বেড়ে গিয়েছিল অস্বাভাবিকভাবে। এখন পরিস্থিতি পুরো পাল্টে গেছে। 
বড় বাড়িগুলিতে যৌনকর্মীদের এক ঘণ্টার রেট অন্তত ৪২০০ থেকে ৫৫০০ টাকা। একটু নতুন হলেই ঘণ্টায় ৫৫০০। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, লকডাউন ঘোষণা হতেই অনেক যৌনকর্মী বাড়ি ফিরে গেছেন। প্রায় ২০০০ দালাল রয়েছে সোনাগাছিতে। বেশীরভাগই বিহারের লোক। তারাও চলে গিয়েছেন বাড়িতে। সামান্য কিছু দালাল রয়েছেন এলাকায়। শ্যাম নামের এক দালাল (‌নাম পরিবর্তিত)‌ বলছিলেন, ‘‌খুব খারাপ অবস্থা। খদ্দের না আসায় আমাদের পেট চালানোই মুশকিল। লকডাউনের জন্য বাড়িও ফিরতে পারছি না।’‌ 
বটতলা থানা সমানে এলাকায় টহলদারি চালাচ্ছে। কিছু ‘‌খদ্দের’‌ যে আসেনি, তা নয়। কিন্তু পুলিশের চোখরাঙানি দেখে এলাকা ছেড়ে পগারপার। এই পরিস্থিতিতে সোনাগাছিতে ব্যবসা প্রায় বন্ধই। 
নামজাদা বাড়িতে থাকা মেয়েদের সমস্যা আরও রয়েছে। যে ঘরগুলিতে তারা থাকেন, ভাড়া অন্তত ৫০ থেকে ৭০ হাজার। যারা রয়ে গেছেন, ‘‌খদ্দের’‌ না আসায় ভাড়ার টাকাই উঠছে না। তার উপর আবার প্রতিটা যৌনকর্মীর নিজস্ব চাকর রয়েছে। ঘর পরিস্কার থেকে রান্নাবান্না সবই চাকরদের করতে হয়। তাদের টাকাও দিতে হয়। সবমিলিয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে থেকে যাওয়া যৌনকর্মীরা। তাই আরও অনেকেই গাড়ি ভাড়া করে দেশের বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। 
লকডাউনের প্রথম দিকে ঘণ্টার রেট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ‘‌খদ্দের’‌ এক ঘণ্টার বেশি থাকলে রেট কমানোর সিদ্ধান্ত ছিল পাকা। কিন্তু করোনা আতঙ্কে লকডাউনের বাজারে ‘‌খদ্দের’‌ এলে তো!‌ 
গলির মধ্যে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা যৌনকর্মীদের অবস্থা আরও খারাপ। এদের রেট অনেক কম। কিন্তু তাদের কাছেও দেখা নেই ‘‌খদ্দের’‌–এর। সংক্রমণের ভয় থেকেই যাচ্ছে এখানে সবচেয়ে বেশি। তাই এখন আর গলির যৌনকর্মীরা কাজেও কেউ আসছেন না। লকডাউনের বাজারে সোনাগাছির ব্যবসাও তাই বন্ধ। এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেতে তাঁদের আর্থিক সাহায্য প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্বারের কর্মীরা। 

জনপ্রিয়

Back To Top