আজকালের প্রতিবেদন: ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্র এবং আইন ও বিচারব্যবস্থায় গরিব মানুষ, শ্রমিক ও কৃষকের অধিকাররক্ষার লড়াইয়ে তাঁদের পাশে থাকার উজ্জ্বল নজির প্রয়াত সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট হলে ‘‌অল ইন্ডিয়া ল’‌ইয়ার্স ইউনিয়ন’‌–এর স্মরণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট আইনজীবী, প্রাক্তন সাংসদ ও প্রাক্তন বিচারপতিরা একই সুরে একথা বলে শ্রদ্ধা জানালেন। দেশে যখন তাঁর মতো মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকাররক্ষার লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই তিনি প্রয়াত হলেন— একথা বলতেও কেউ দ্বিধা করলেন না। উঠে এল ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সঙ্গে কাজ করার টুকরো টুকরো অধ্যায়। অনিন্দ্য মিত্র বললেন, ১৯৬১ সালে যখন তিনি তাঁর চেম্বার জুনিয়র। তখন মাত্র ৯ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতাতেই সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় নামী আইনজীবী। সাংসদ হওয়ার পর অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও মামলা গ্রহণের সময় জুনিয়র আইনজীবীদের বলে রাখতেন, শ্রমিক, কৃষক বা গরিব মানুষের মামলা থাকলে তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেক্ষেত্রে পারিশ্রমিক নেওয়া তো দূরের কথা, মামলা ফাইল করার খরচও নিজের পকেট থেকে দিতেন। অধ্যক্ষ হিসেবে লোকসভাকে গোটা বিশ্বের সামনে নজির সৃষ্টিকারী করে তুলেছিলেন তিনি, বললেন রূপচাঁদ পাল। নীলোৎপল বসু বললেন, বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় আমেরিকার ইচ্ছা অনুসারে ইজরায়েলের যুদ্ধে ভারতীয় সৈন্য পাঠানোর ভাবনা শুরু হয়েছিল। তাঁরই নেতৃত্বে প্রায় সব দলের সাংসদ জোরালো প্রতিবাদ করে সেটা আটকান। প্রাক্তন বিচারপতি সমরেশ ব্যানার্জি বললেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা লড়ার সময়ও দেখেছি, তখনও শেখার আছে। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বললেন, আজীবন তিনি বাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশে ছিলেন, এমনকি হুইলচেয়ারে বসেও। সেভ ডেমোক্রেসির এক সাংবাদিক সম্মেলনে অসুস্থতার জন্য যোগ দিতে পারবেন না বলে তিনি তাঁর বাড়িতেই সাংবাদিক সম্মেলন ডাকতে বলেছিলেন। আর একবার বোলপুরে সভার পুরো খরচের টাকাটা তো দিলেনই, অসুস্থ শরীরে সভায় এসে গাড়িতে বসেই মাইকে বক্তব্য পেশ করলেন।

সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় স্মরণ অনুষ্ঠানে বলছেন অনিন্দ্য মিত্র। রয়েছেন রূপচাঁদ পাল, নীলোৎপল বসু, অরিন্দম ভট্টাচার্য, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, ভারতী মুৎসুদ্দি ও সমরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট হলে, শুক্রবার। ছবি:‌ দীপক গুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top