উদ্দালক ভট্টাচার্য: ‘‌ঈশ্বরের দিব্যি, মূর্তি ওখানেই হবে।’‌ এ যেন ‘‌মন্দির ওয়হি বনায়াঙ্গে’‌ স্লোগানের জবাব। জবাব দিচ্ছে বাংলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় আট থেকে আশি মূর্তি ভাঙা নিয়ে ফুঁসছেন। নানারকম পোস্ট আছে। কেউ কেউ হয়তো হাসি–তামাশাও করছেন। কিন্তু বেশিরভাগের কথাতেই ঝরে পড়ছে রাগ, আবেগ ও অপমানের যন্ত্রণা। সব থেকে বেশি জনপ্রিয় হয়েছে বোধহয় এই পোস্টটি—‌ ‘‌বিদ্যাসাগর আর গরুর রচনা পরীক্ষায় অর আসত। যাঁরা গরু লিখতেন, তাঁদেরই দেখা গেল রাস্তায়।’ বিজেপি সমর্থকদের তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে এই পোস্টে। ব্রততী নাগ লিখেছেন, ‘‌ঈশ্বরের নাম করে যারা বাংলার ‘‌ঈশ্বর’‌কে গুঁড়িয়ে দেয়, তারা কেমনে বেটি বাঁচায়!‌ বেটি পড়ায়!’‌‌ বিখ্যাত চিত্রশিল্পী সনাতন দিন্দা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‌বর্ণপরিচয় ভাঙল, এবার যাবে জন্মপরিচয়।’‌ 
ক্ষোভের এই অনর্গল ধারায় আসলে মাথা উঁচু করেই দাঁড়িয়ে বিদ্যাসাগর। কখনও বর্ণপরিচয়, কখনও অন্য নানা লেখা উঠে আসছে টাইম লাইনে। অনেক বিজেপি সমর্থকই ফেসবুকে দাবি তুলেছেন, বিদ্যাসাগর কলেজের সিসি টিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনতে। না হলে নাকি বোঝার উপায় নেই যে এই কাজ করেছে বিজেপি। তারও উত্তর অক্ষরে অক্ষরে দিয়ে দিচ্ছেন বাঙালি নেটিজেনরা। অনেকেই বলছেন, যাঁরা একসময় সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রমাণ চাইলে দেশদ্রোহী তকমা দিত, তাঁরাই এখন হাজারটা সত্যি ভিডিও দেখার পরেও সিসি টিভি ফুটেজ চাইছে। সত্যি, কি তাঁদের লজ্জা নেই?‌ 
বাংলা প্রায় এককাট্টা এই ঘটনায়। অনেকেই সরাসরি সরব হয়েছেন বিজেপি–র এই মূর্তি ভাঙার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। তাঁরা বলেছেন, ‘‌দক্ষিণ ভারত থেকে শুরু করে দেশের সর্বত্র কোথাও আম্বেদকর, কোথাও গান্ধীমূর্তি, কোথাও লেনিনের মূর্তি ভেঙেছে বিজেপি। সেই সংস্কৃতি এবার পশ্চিমবঙ্গে আমদানি করেছেন অমিত শাহ ও তাঁর দলের সমর্থকেরা। তাই দেশকে বাঁচাতে এদের পরাজিত করা প্রয়োজন।’‌ 
ছড়িয়েছে গুজবও। ‘‌আমি বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্র’‌ এই শিরোনামে, একটি লেখা নানা প্রোফাইল থেকে পোস্ট করা হয়েছে। সেটি যে গুজব, তা কিছুক্ষণের মধ্যেই ধরা পড়ে গেছে। ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সেই প্রোফাইলটিও। 
সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বেদনা, ক্রোধ রাজ্য ও দেশ–‌বিদেশের বাঙালির। তাঁদের সকলের একটাই কথা, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে আসলে বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতিকে আক্রমণ করেছে বিজেপি, যা সহ্যের অতীত। ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top