আজকালের প্রতিবেদন: ‌‌‌‌‌রাজ্যে যাতে কোথাও মাঝেরহাট–‌কাণ্ডের মতো ঘটনা না ঘটে তার জন্য ব্যবস্থা নিতে শুরু করে দিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার থেকেই বিদ্যাসাগর সেতুর ওপর থেকে সমস্ত গাছের টব সরানোর কাজ শুরু করল হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশন। এই সংস্থাই বিদ্যাসাগর সেতু রক্ষণাবেক্ষণ করে। সেতুর ভার কমাতেই এই ব্যবস্থা। সেতুর সৌন্দর্যায়নে এই টবগুলো বসানো হয়েছিল। কিন্তু দেখা যায় সেতু ভারী হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে সেতুর ক্ষতি না হয়, তাই টবগুলো সরিয়ে ফেলা হল। মাঝেরহাট সেতুর এই বিপর্যয় কেন হল, তার কারণ খতিয়ে দেখতে নবান্নে এদিন বৈঠকে বসেন মুখ্যসচিব মলয় দে। বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে তার চেয়ারম্যান মুখ্যসচিব।
মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনার তদন্তে ৭০ জনের বয়ান রেকর্ড করল কলকাতা পুলিসের বিশেষ তদন্তকারী দল (‌সিট)‌। যুগ্ম নগরপাল (‌অপরাধ দমন)‌ প্রবীণ ত্রিপাঠী জানান, আহত থেকে শুরু করে মেট্রোয় যাঁরা কাজ করছিলেন, পথচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে এই বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। মেট্রোকে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার জন্য কলকাতা পুলিসের তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলের ছবি তুলেছে এবং কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছে।
এদিন পূর্তসচিব অর্ণব রায় সকাল থেকে দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ শুরু হয়ে গেছে। কলকাতা শহরে সেতু এবং উড়ালপুলের নিচে বাজার ও জবরদখলকারীদের কীভাবে সরানো যায়, তার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। শহরে আর ২০ চাকার লরি ঢুকতে দেওয়া হবে না। নবান্ন সূত্রে খবর, তদন্ত কমিটি প্রথম দিনেই মাঝেরহাট সেতুর ভেঙে পড়া অংশের ফরেনসিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখেছে। সেতুর নকশা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কোন অংশে কীভাবে ফাটল ধরেছিল, তা নিয়ে আলোচনা হয়।  
এদিন জিওসি (‌বেঙ্গল সাব এরিয়া)‌ মেজর জেনারেল অমিত কুমার সান্যাল নবান্নে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকেও মাঝেরহাট সেতুর প্রসঙ্গ ওঠে। মেজর জেনারেল মুখ্যসচিবকে জানান, রাজ্য সরকার চাইলে মাঝেরহাট সেতু নির্মাণে সেনাবাহিনী সবরকমের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিদ্যাসাগর সেতুর নিচে সেনাবাহিনীর দখলে থাকা অংশটির দেখভাল নিয়েও আলোচনা হয়।‌‌

দ্বিতীয় হুগলি সেতু থেকে টব উৎখাত। শুক্রবার। ছবি: কৌশিক কোলে

জনপ্রিয়

Back To Top