সম্বৃতা মুখার্জি: বিবাহিত নারীদের সিঁথিতে সিঁদুর পরা প্রাচীন রীতি। হিন্দু সমাজের মঙ্গল চিহ্ন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। আনুমানিক ৫০০০ বছরের এই রীতিকে পুজোর মণ্ডপে তুলে ধরছে উত্তর কলকাতার রামমোহন সম্মিলনীর পূজামণ্ডপ। কালীঘাটের পটদুর্গাও দেখা যাবে এই পুজোয়। রামায়ণে সীতা এবং মহাভারতে দ্রৌপদীর সিঁথিতে সিঁদুর ব্যবহারের কথা উল্লেখ আছে। একই কথা বলা আছে হরিবংশ পুরাণে। শ্রীকৃষ্ণ রুক্মিণীকে বিয়ে করে তাঁর সিঁথিতে সিঁদুর দান করেছিলেন। এই পরম্পরাই এখনও অবধি হিন্দু বিবাহে প্রচলিত। এই প্রথা ও তার ব্যাখ্যা প্রকাশ পাবে রামমোহন সম্মিলনীর মণ্ডপে। 
শিল্পী মলয় রায় বলেন, ‘‌মণ্ডপের মূল প্রবেশদ্বারে চোখে পড়বে আকাশ থেকে নেমে আসা স্বর্গীয় সিঁদুরের রেখা এবং সেই সিঁদুর গঙ্গার তীরে অসংখ্য নৌকো যেগুলো আমাদের এক একটি সংসার। এই সিঁদুরই নৌকারূপী  সংসারগুলোকে জগৎ পারাপার করাচ্ছে। তার নীচেই থাকছে বাঁশ আর লাল কাপড়ের নিপুণ বাঁধন যা মনে করিয়ে দেবে সংসারে সবার মধ্যের মেলবন্ধন। মণ্ডপের ভিতরে থাকছে সিঁদুর ব্যবহারের আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যা ট্র্যাডিশনাল পেন্টিং–‌এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।’‌ প্রতিমাতেও থাকছে বহু পুরনো কালীঘাটের পটদুর্গার ছোঁয়া। 
মণ্ডপে তুলে ধরা হচ্ছে ব্রহ্মাণ্ডপুরাণের অংশ বিশেষ। দেবী ললিতা যিনি মা দুর্গা বা মা শক্তির অপর নাম তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশে।  ললিতাদেবীর সিঁথির সিঁদুরকে শ্রীলক্ষ্মীর প্রতীক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে ব্রহ্মাণ্ড। একজন বিবাহিত নারীকে এই সিঁদুরই শ্রীলক্ষ্মীর স্বরূপ হিসাবে সমাজের সামনে তুলে ধরে। হিন্দু সংস্কারে নারীকে লক্ষ্মী হিসাবে গণ্য করা হয়। বিবাহিত নারীকে শ্রী এবং লক্ষ্মী অর্থাৎ শ্রীলক্ষ্মী হিসাবে গণ্য করা হয়। একজন বিবাহিত নারী সংসারের ‘শ্রী’–‌এর কারণ। ‘শ্রী’ বিনা সেই সংসার পূর্ণতা পায় না। সিঁদুর পরার সময় মায়েরা নীচে নামেন না। ওপরে ওঠেন। তর্জনী দিয়ে সিঁদুর পরলে কি হয়? মধ্যমা দিয়ে ধারণ করলেই বা কি হয় এইসবের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা থাকছে মণ্ডপের ভিতরে। ক্লাব সদস্য অনির্বাণ সেনগুপ্তের মতে, এখনকার দিনে সিঁদুরের ব্যবহার কমে আসছে। আধুনিকতার সঙ্গে পরম্পরাকেও ধরে রাখার প্রয়োজন আছে সেটা সমাজের সামনে তুলে ধরতেই তাঁদের এই প্রয়াস।

রামমোহন সম্মিলনীর মণ্ডপের সজ্জা তৈরি করছেন শিল্পীরা। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top