শ্রাবণী গুপ্ত 

পুরনো বাংলায় একটা কথা আছে, ‘‌ফেলো কড়ি মাখো তেল’‌। এ যেন অবিকল সেই বাক্যের কপি পেস্ট। স্বামী, স্ত্রী এখন আলাদা থাকেন। স্ত্রী এর কাছে উকিলের চিঠি মারফত টাকা চেয়ে পাঠালেন স্বামী। পাল্টা স্বামী এখনও শ্বশুরবাড়ির যে ফ্ল্যাটে থাকছেন। সেই সম্পত্তি ফেরত চেয়ে আইনি নোটিস পাঠাতে চলেছেন স্ত্রী।
 এই ঘটনার দুই চরিত্রই পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র, অধুনা বিজেপি নেতা শোভন চ্যাটার্জি এবং তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী রত্না চ্যাটার্জি। পার্শ্ব চরিত্র হিসেবে রয়েছেন শোভন বান্ধবী বৈশাখী ব্যানার্জি এবং রত্নার ভাই শুভাশিস দাস।
 এবার আসা যাক মূল কাহিনীতে। মহেশতলার জয়শ্রীতে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি। এক কথায় একাধিক গোডাউন যা ভাড়ায় খাটে। দাস এন্ড চ্যাটার্জি কোম্পানির নামে নথিভুক্ত এই সম্পত্তি একসময় শোভন কিনেছিলেন। যদিও রত্না ও তাঁর পরিবারের দাবি, গোডাউন কেনার সেই টাকা শ্বশুর ও শাশুড়ির অ্যাকাউন্ট থেকে পেয়েছিলেন শোভন। তাদের আরও দাবি, ইডি এবং সিবিআই ডাকার পরে শোভন সেই কোম্পানি থেকে পদত্যাগ করেন। এখন শোভন পুত্র সপ্তর্ষি (ঋষি) বাবার সেই অংশের মালিক। 
এক মাস আগে শোভনের তরফে এই সম্পত্তি বাবদ টাকা চেয়ে আইনি চিঠি পাঠানো হয় রত্নাকে। aajkaal.in কে শোভন এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‌আমি এখন কপর্দক শূন্য। নিজের খরচ চালাতে পারছি না। আমার টাকার দরকার। তাই টাকা চেয়ে চিঠি দিয়েছি।’‌ শোভন শ্যালক শুভাশিস দাস aajkaal.in কে জানালেন, ‘‌কোনও উকিলের চিঠি মানছি না। ওনার টাকার দরকার থাকলে আমার মুখোমুখি বসুন। এই সম্পত্তিতে আর ওর কোনও অধিকার নেই। ইডির ভয়ে উনি কোম্পানি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। আমি ও উকিলের চিঠি পাঠাচ্ছি। গোলপার্কের ন’‌তলায় যে ফ্ল্যাটে উনি থাকেন সেটা আমাদের কোম্পানির সম্পত্তি। ওটা ফেরত চাই।’‌ 
তোপ দাগলেন রত্নাও। aajkaal.in এর কাছে তাঁর অভিযোগ, ‘‌বৈশাখীর বুদ্ধিতে চলছে ও। নিজের ছেলে–মেয়ের খোঁজও রাখে না। আমার পরিবার পাশে না থাকলে রাস্তায় ভিক্ষা করতে হতো।’‌ 

রাজ্যে ভোটের হাওয়ার উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রচারে ব্যক্তি আক্রমণ। তার মধ্যে এই পারিবারিক কোন্দল। যেখানে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা জড়িত রয়েছেন। এই ঝামেলা এখন কোনদিকে গড়ায় সেটাই দেখার।

জনপ্রিয়

Back To Top