সম্বৃতা মুখার্জি: আদিবাসী শিল্পকলায় মণ্ডপ সাজিয়ে দুর্গাপুজোয় চমক দিতে চলেছে সল্টলেকের এজে ব্লক পুজো কমিটি। ভারতে বৃহত্তম উপজাতিগুলির অন্যতম ওয়ারলি। মহারাষ্ট্র, গুজরাটের সীমান্ত এলাকায় তাঁদের বসবাস। ওয়ারলি চিত্রকলার মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের জীবনযাত্রাকে ফুটিয়ে তোলেন। এ বছর এজে ব্লকের পুজোয় মণ্ডপের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ওয়ারলি চিত্রকলা। ছবির মাধ্যমেই দেওয়া হচ্ছে বন–‌সংরক্ষণের বার্তা।  
ওয়ারলি চিত্রকলার জন্য মহারাষ্ট্র বিখ্যাত। রূপকথার গল্প নয়, নিজেদের দৈনন্দিন ও সমাজ–‌জীবন, যেমন পশুপালন, কৃষিকাজ, মাছ ধরা, ধর্মীয় রীতিনীতি, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে এই চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন ওয়ারলি উপজাতির মানুষরা। জ্যামিতিক আকারের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয় বিভিন্ন ছবি। যেমন চাঁদ ও সূর্যকে বৃত্ত, পাহাড়কে ত্রিভুজ, মানুষের দেহ দুটি ওল্টানো ত্রিভুজ দিয়ে বোঝানো হয়। এটাই এই চিত্রকলার একটি বৈশিষ্ট্য। লাল দেওয়ালে সাদা চালের গুঁড়ো দিয়ে এই ছবি আঁকা হয়। এ ছাড়াও ওয়ারলি উপজাতির মানুষের জীবনযাত্রা প্রকৃতি–‌নির্ভর। তাই বনজ সম্পদকে তাঁরা ঈশ্বর মেনেই পুজো করেন। 
এজে ব্লকের পুজোয় এ বছর মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী অমিত ও অরিন্দম। মণ্ডপে ঢোকার আগে, মূল গেটের কাছে থাকছে একটি গাছের কাঠামো। দেখলে মনে হবে রক্ষা করা হচ্ছে গাছটিকে। বাইরে থাকছে মাদল বাদ্যরত ওয়ারলি উপজাতির মানুষদের কয়েকটি কাঠামো। দেওয়াল থেকে মণ্ডপের ওপরের অংশ ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ছবি দিয়ে। এ বছর পুজোয় সাবেকি প্রতিমার মধ্যেও বৈচিত্র‌্য আনছে এজে ব্লক। থিমের সঙ্গে মানিয়ে প্রতিমাকে শাড়ি পরানো হচ্ছে ওয়ারলি উপজাতির মহিলাদের মতো করে। প্রতিমার পিছনে চালচিত্রেও থাকছে ওয়ারলি চিত্রশিল্প। প্রতিমাশিল্পী সনাতন পাল। এই অভিনব চিন্তাভাবনা এক দিকে যেমন দর্শকদের কাছে দৃষ্টিনন্দন হবে, সে–‌রকমই পরিবেশরক্ষা সচেতনতায় ভাল লাগবে বলেই মনে করছেন পুজো কমিটির পক্ষে মৈনাক দত্ত। তিনি জানালেন, ‘‌গত বছর মাতৃজঠর ফুটে উঠেছিল মণ্ডপে। দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছিল মণ্ডপ। সল্টলেকের প্রথম পাঁচটি পুজোর মধ্যেই ছিলাম। এ বছর আশা করছি আমাদের পুজো দর্শকদের আরও ভাল লাগবে।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top