আজকালের প্রতিবেদন- শুক্রবার রাজ্য জুড়ে উদযাপিত হল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। আমফান পরবর্তী বাংলায় বহু জায়গাতেই হাজার ‌হাজার গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এদিন বৃক্ষরোপণ করে সবুজায়নের ক্ষেত্রে বড় প্রস্তুতিও নেওয়া হল। সল্টলেকের পরিবেশ ভবনে এক অনুষ্ঠানে পরিবেশ মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র বলেন, ‘কলকাতায় ১৫ হাজার এবং সুন্দরবনে প্রায় ৫ লক্ষের ওপর গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যের অন্যান্য অংশের সমীক্ষা চলছে।’‌ তিনি পরিকল্পিত এবং বিজ্ঞান সম্মত বনায়নের ওপর জোর দেন। তিনি গাছ লাগানোর বরাদ্দ বাবদ এদিন ৫ কোটি টাকা মঞ্জুরের কথা ঘোষণা করেছেন। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ পরিকল্পনা করবে, কীভাবে গাছ পুঁততে হবে। ছিলেন পরিবেশ দপ্তরের সচিব বিবেক কুমার, পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র, সদস্য সচিব রাজেশ কুমার। খাদ্যশ্রী ভবনে বৃক্ষরোপণ করেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এদিন পুলিশ অ্যাথলেটিক ক্লাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করেন কলকাতার নগরপাল অনুজ শর্মা।
রবীন্দ্রসঙ্গীত, বেদ মন্ত্র পাঠ করে বিশ্বভারতী বাংলাদেশ ভবনে গাছ রোপণ করে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের অনুষ্ঠানে ছিলেন রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাশ, বাণিজ্যের ডিন সিদ্ধার্থশঙ্কর সাহা প্রমুখ। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–‌উপাচার্য গৌতম পালের উপস্থিতিতে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে ছিলেন রসায়ন বিভাগের অফিস কো–‌অর্ডিনেটর ফারুক আহমেদ, ওয়েবকুপার ইউনিটের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক সুজয়কুমার মণ্ডল, অধ্যাপক মনোরঞ্জন জানা, সুশান্ত মজুমদার। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ হেদুয়া পার্কে বৃক্ষ দান ও আপৎকালীন পরিষেবা প্রদান কর্মসূচি পালন করে। অনুষ্ঠানে একশো পঞ্চাশ জন মানুষের হাতে খাদ্য সামগ্রী ও চারাগাছ তুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনে চারাগাছ দেওয়া হয়। মূল অনুষ্ঠানে অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদার কর্তৃক নামাঙ্কিত কল্পতরু, আশাতরু, বনলক্ষ্মী তিনটি মেহগনি গাছ রোপণ করা হয়। তিনি ছাড়াও ছিলেন অধ্যাপক প্রদীপ মহাপাত্র, অধ্যাপক সিদ্ধার্থ দত্ত, অধ্যাপক শ্যামল চক্রবর্তী, তপন সাহা, উৎপল দত্ত, শেখ সোলেমান ও ক্রীড়াবিদ উৎপল চ্যাটার্জি। শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের উদ্যোগে বারাসত বীণাপাণি হাই স্কুলে অনুষ্ঠানে ছিলেন জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী, জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ এ কে এম ফারহাদ–সহ বিশিষ্টরা। ব্যারাকপুর পুলিশের উদ্যোগে সোদপুর নাটাগড় স্বামী বিবেকানন্দ সেবা সমিতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠান হয়। ছিলেন বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মলকান্তি ঘোষ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিসকুমার চৌধুরি।‌ কেভেন্টার অ্যাগ্রোর সিএমডি মায়াঙ্ক জালান জানিয়েছেন, ‘‌কোভিড সংক্রমণের অনেক আগে থেকেই এবং এখন মনে করা হচ্ছে যা ঘটছে পৃথিবীতে তা মানুষের বিরুদ্ধে প্রকৃতির প্রতিশোধ। আমরা ২০২৫ সালের মধ্যে গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ ৭৫ শতাংশ কমানোর একটা পরিকল্পনা করেছি। এবং যত বেশি সম্ভব পুনর্ব্যবহারযোগ্য এনার্জি ব্যবহারে জোর দেওয়া হবে।’‌ এদিকে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি (‌ম্যাকাউট)‌ এই দিনটি উপলক্ষে হরিণঘাটা ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণের আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈকত মৈত্র বলেন, ‘‌সারা বছরই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা উচিত। এক বছরে ১ লক্ষ গাছ লাগানো হবে।’‌ সীমা সুরক্ষা বলের পক্ষ থেকে রানিডাঙায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। আইজি (‌ফ্রন্টিয়ার শিলিগুড়ি)‌ শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ডিআইজি টমাস চাকো–‌সহ অন্য আধিকারিকরা।‌‌ রাজ্যে ১ লাখ গাছ লাগাবেন বলে জানিয়েছেন ‘‌কৌশি’‌ সংস্থার কর্তা অমিতাভ সামন্ত।‌

গাছ রোপণ করছেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। খাদ্যশ্রী ভবনে। ছবি:‌ আজকাল‌

জনপ্রিয়

Back To Top