নীলাঞ্জনা সান্যাল

 

করোনা পরিস্থিতিতে বাতিল হয়েছে বাকি থাকা পরীক্ষা। বিকল্প পথে হয়েছে মূল্যায়ন। তাতে আইসিএসই এবং আইএসসি— দুটি পরীক্ষাতেই গতবছরের তুলনায় এবছর বাড়ল পাশের হার। শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে এই দুটি পরীক্ষার ফল। যেহেতু বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করে ফল প্রকাশ তাই এবছর দুটি পরীক্ষার ক্ষেত্রেই বোর্ডের তরফে কোনও মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি। যে পদ্ধতিতে ফল প্রকাশিত হয়েছে তা সবথেকে বিজ্ঞানসম্মত বলে মনে করছেন শহরের একাধিক স্কুলের অধ্যক্ষরা। তাঁদের বক্তব্য, মান এবং মেধা অনুযায়ী নম্বর পেয়েছে পড়ুয়ারা। ‘‌লুজার’‌ নয়, ‘‌গেনার’‌ই হয়েছে তারা। 
আইসিএসই অর্থাৎ দশমের পরীক্ষায় সারা দেশে এবছরের পাশের হার ৯৯.‌৩৩ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৯৮.‌৫৪ শতাংশ। দ্বাদশ অর্থাৎ আইএসসি পরীক্ষায় গত বছর পাশের হার ছিল ৯৬.‌৫২ শতাংশ। এবছর যা সামান্য বেড়ে হয়েছে ৯৬.‌৮৩ শতাংশ। 
রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলগুলির ফলও ভাল হয়েছে। হাওড়ার সেন্ট থমাস চার্চ স্কুলের উপাসনা চন্দ্র আইএসসিতে পেয়েছে ৯৯.‌৫ শতাংশ।  কলা বিভাগের ছাত্রী উপাসনা ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ভূগোলে একশোয় ১০০ পেয়েছে। কলকাতার লা মার্টিনিয়ার ফর গার্লস স্কুলের ছাত্রী আবিশি পোদ্দার আইএসসিতে পেয়েছে ৯৯ শতাংশ। আইসিএসইতে এমপি বিড়লা স্কুলের অর্চিষ্মান ঘোষ ৯৯.‌২ শতাংশ পেয়েছে। কলকাতার ডনবস্কো স্কুলের ছাত্র সমাদৃত মুখার্জি পেয়েছে ৯৯ শতাংশ। ভাল ফলের আশা করলেও এত ভাল হবে আশা করেনি সমাদৃত। ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছা রয়েছে। অ্যাডামাস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের কলা বিভাগের ছাত্র ঋতব্রত চক্রবর্তী আইএসসিতে ৯৯.‌৫ শতাংশ পেয়েছে। বিজ্ঞানে অনুষ্কা বিশ্বাস ও শ্রুতি আগরওয়াল ৯৮ এবং বাণিজ্যে মোহিত সুরানা পেয়েছে ৯৭ শতাংশ। আইসিএসইতে পৃথা রায় ৯৮.‌৮ শতাংশ, উমঙ্গ আগরওয়াল এবং পুষ্পার্ঘ্য মল্লিক ৯৮.‌৬ শতাংশ পেয়েছে। রামমোহন মিশন হাইস্কুলের রায়না সাঁতুয়া আইএসসিতে ৯৭ শতাংশ এবং আইসিএসইতে সারাংশ টঙ্ক ৯৮.‌৪ শতাংশ পেয়েছে । ব্যান্ডেল ডনবস্কোর ছাত্র ঋতব্রত দাস আইএসসিতে ৯৮ শতাংশ পেয়েছে। সফল পরীক্ষার্থীদের টুইট করে অভিনন্দন জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। 
 আইএসসির ক্ষেত্রে ইংরেজি–‌সহ তিনটি সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া বিষয়ের ভিত্তিতে  ফল প্রকাশিত হয়। আইসিএসইর ক্ষেত্রে ফল প্রকাশিত হয় ইংরেজি–‌সহ সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া চারটি বিষয়ের ভিত্তিতে। লকডাউন শুরুর আগে দুটি পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদেরই তিনটি বা তার বেশি বিষয়ের পরীক্ষা হয়ে গেছিল। আইএসসির ফল প্রকাশিত হয়েছে যে পরীক্ষাগুলি হয়ে গেছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া তিনটি বিষয়ের গড়ের শতকরা হিসেবকে যে পরীক্ষাটি বা পরীক্ষাগুলি হয়নি তার লিখিত পরীক্ষার নম্বর হিসেবে ধরে। এবং তার সঙ্গে নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রোজেক্ট বা প্র‌্যাকটিক্যালে প্রাপ্ত নম্বরের শতাংশ যোগ করে। আইসিএসইর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। এভাবে মূল্যায়নের পর প্রাপ্ত নম্বরে ছাত্রছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত নয় বরং লাভবান হয়েছে বলেই মত বিভিন্ন স্কুলের অধ্যক্ষদের। লা মার্টিনিয়ার ফর গার্লস স্কুলের অধ্যক্ষ রূপকথা সরকার বলেন, ‘‌দুটি পরীক্ষার ফলাফল দেখে বলতে পারি পড়ুয়ারা কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং ফল ভাল হয়েছে।’‌ বিবেকানন্দ মিশন স্কুলের (‌‌জোকা)‌‌ অধ্যক্ষ শর্মিষ্ঠা ব্যানার্জি বলেন, ‘মূল্যায়নের যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে তাতে আমার মনে হয় পড়ুয়াদের মেধার প্রতি সুবিচার করা হয়েছে। অনেক পরীক্ষা  হয়নি। ছাত্রছাত্রীদের মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু ফলাফল দেখে মনে হচ্ছে তারা কোনওভাবেই ‘‌লুজার’‌ নয়, বরঞ্চ লাভবান হয়েছে।’‌ 

রামমোহন মিশন স্কুলের অধ্যক্ষ সুজয় বিশ্বাস বলেন, ‘‌পরিস্থিতি যা তাতে পরীক্ষা নিলে অবিচার করা হত। সে পদ্ধতিতে ফল প্রকাশ হয়েছে সেটাই সবথেকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। প্রি–বোর্ডের  পর দেড়–দু’‌মাসের প্রস্তুতি নিয়ে পড়ুরা যে পরীক্ষা দিয়েছে তার ভিত্তিতে তাদের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।  সব ধরনের পড়ুয়ারাই তাদের মেধা অনুযায়ী নম্বর পেয়েছে।’‌
এবছর সারা দেশে আইসিএসই পরীক্ষার্থী ছিল ২,০৭,৯০২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৫৪.‌১৯ শতাংশ। ছাত্রী ৪৫.‌৮১ শতাংশ। সফল হয়েছে ২,০৬,৫২৫ জন। অকৃতকার্য ১৩৭৭ জন। আইএসসি পরীক্ষা দেয় ৮৮,৪০৯ জন। ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা যথাক্রমে ৫৩.‌৬৫ এবং ৪৬.‌৩৫ শতাংশ। সফল ৮৫,৬১১ জন। অকৃতকার্য ২৭৯৮ জন। রাজ্যে  আইসিএসই পরীক্ষা দেয় ৩৭,২৫৮ জন। ছাত্রের সংখ্যা ৫৫.‌৭৮ শতাংশ। ছাত্রীর ৪৪.‌২২ শতাংশ। সফল ৩৬,৯২০ জন। অকৃতকার্য ৩৩৮ জন। আইএসসি পরীক্ষা দেয় ২৫,০৫৮ জন। সফল ২৪,৪৫৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৬০৫ জন। আগামী ৭ থেকে ১০ দিন পর মার্কশিট দেওয়া হবে।‌

উপাসনা চন্দ্র। আইএসসি–তে ৯৯.‌৫ শতাংশ নম্বর।

জনপ্রিয়

Back To Top