সৌরভ নন্দী: ‌‌‘‌দেবী দুর্গাকে আমি বৃহন্নলা বানাতে পারব না। সে সাধ্য আমার নেই। তবে বৃহন্নলাকে দেবী দুর্গা রূপে দেখানোর চেষ্টা করতে পারি।’‌ পুজোর প্রতিমা গড়ার কাজে হাত দেওয়ার আগে দমদম তরুণ দলের পুজো কমিটিকে ঠিক এ কথাই জানিয়েছিলেন শিল্পী সনাতন দিন্দা। 
দমদম তরুণ দলের এবারের পুজোর থিম– তৃতীয় লিঙ্গ। বৃহন্নলা। মহাভারতে পাণ্ডবপুত্র অর্জুন নারীর ছদ্মবেশে বৃহন্নলা নামে বিরাট রাজার কন্যা উত্তরার নৃত্যগীতের ভার নিয়েছিলেন। সেই বৃহন্নলা, যাঁরা প্রাচীন সাহিত্যে স্বসম্মানে প্রতিষ্ঠা পেত। তাঁরাই আজ সমাজে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। কারণ তাঁরা ‘‌অন্যরকম’‌। তাঁদের বেশভূষা আপনার মতো নয়। প্রতিবেশী, সমাজ– এসব তো অনেক পরে আসে। তাঁদের প্রতি বাড়ির আত্মীয়-স্বজন, ভাই-বোন এমনকি নিজের বাবা-মায়ের অসহযোগিতা এবং সন্তানকে বুঝতে না চাওয়ার গোঁড়ামিটাই বেশি স্পষ্ট। কখনও সম্পর্ককেও অস্বীকার করার মানসিকতা, আবার কখনও ‘‌অসুখ’‌ সারাতে মনোবিদের দ্বারস্থ হওয়া। আজ একুশ শতকে দাঁড়িয়েও সামাজিক–পারিবারিক সব পরিস্থিতিতেই প্রত্যেকদিন লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা। কেউ বাড়ি ছেড়ে পালানোর কথা ভাবেন। কেউ আবার বেছে নেন আত্মহননের পথ। 
দমদম তরুণ দলের পুজো কমিটির সেক্রেটারি বিশ্বজিৎ প্রসাদ জানিয়েছেন,‘‌তৃতীয় লিঙ্গ যে আলাদা পরিচয়, সেই সত্যিটা এখনও অনেকে সহজ ভাবে মেনে নিতে পারেন না। অনেকে মুখে মেনে নিলেও ক্ষীণ আশা রাখেন যে, হয়তো ওই সন্তান একদিন ঠিক হয়ে যাবে। এভাবেই আজও সমাজের গতির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারছেন না তাঁরা৷ সমাজে এঁদের গ্রহণযোগ্যতা যাতে বাড়ে, তাই আমাদের এই উদ্যোগ৷ এই বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করব আমরা।’‌ 
মন্ডপের দায়িত্বে থাকা এই ক্লাবেরই এক সদস্য, অনির্বাণ দাস জানিয়েছেন, ‘‌আমাদের পুজোর ট্যাগলাইন, আমরা দেখি চাঁদের আলো/ তোমরা দেখ কলঙ্ক। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষও রক্তমাংসের মানুষ, তাঁদেরও খিদে-তৃষ্ণা আছে৷ তাঁদের কেন সমাজ-বহির্ভূত ভাবা হবে? এই সচেতনতা বাড়াতেই আমাদের এই ভাবনা৷’‌

 

ছবি সৌজন্যে দমদম তরুণ দল‌

জনপ্রিয়

Back To Top