আজকালের প্রতিবেদন: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন হোক শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক উপায়ে। শনিবার রাজ্যের বিশিষ্টরা বাংলার মানুষের কাছে এই আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টিকারী ওই আইনের বিরুদ্ধে জোরদার প্রতিবাদ করতে হবে। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁরা আরএসএস–বিজেপি–র তুমুল সমালোচনা করেন।
এদিন বাংলার বিশিষ্টরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করেন। উপস্থিত ছিলেন শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়, পুরাণবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী, চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন, কবি জয় গোস্বামী, কবি সুবোধ সরকার, সাহিত্যিক আবুল বাশার, অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার, শিক্ষাবিদ অভীক মজুমদার, অধ্যাপক দীপঙ্কর দে, কবি প্রসূন ভৌমিক। তাঁদের সমর্থনে বার্তা পাঠিয়েছেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এবং শিল্পী কবীর সুমন। মানুষের মধ্যে বিভেদের প্রতিবাদে তাঁরা এক বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে সই করেছেন নাট্যব্যক্তিত্ব মনোজ মিত্র, শাঁওলি মিত্র, অভিনেতা অরিন্দম শীল, অভিনেত্রী জুন মালিয়া।
প্রতুল মুখোপাধ্যায় জানান, দেশে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্য যারা দায়ী তাদের সংক্ষেপে বিজেপি বলা যেতে পারে। এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মমতাকে দরকার, বিজয়নকেও দরকার। জনবিক্ষোভ ছাড়া এই বিপদ তাড়ানো যাবে না। নৃসিংহপ্রসাদ বলেন, ‌‘‌দেশের নামে এমন করা হচ্ছে!‌ যাঁরা করছেন তাঁরা দেশের জন্য শুধু বক্তৃতা দিয়ে গিয়েছেন!‌’‌ শুভাপ্রসন্ন বলেন, ‘‌অনেকে রাগ দেখানোর জন্য অন্যভাবে বিরোধিতা করছেন। অন্যের সম্পত্তির ক্ষতি হচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করতে জানি। অহিংসার মাধ্যমে করব।’‌ জয় গোস্বামীর অভিযোগ, আইনের মাধ্যমে বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে। ঘোর দুর্দিন। প্রতিবাদ হবে সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ এবং দৃঢ়ভাবে। পথপ্রদর্শক হবেন মমতা। সুবোধ সরকার বলেন, ‘‌বিনয় এবং ক্রোধের সঙ্গে বলতে চাই, মানুষ হলে মানুষ খুন করা আইন ফিরিয়ে নিন। ওটা আইন নয়, আগুন।’‌ আবুল বাশার বলেন, ‘‌এই পরিস্থিতি সামলাতে পারেন মমতা। বাংলার সংস্কৃতি মানে মমতার সংস্কৃতি।’‌ অভিরূপ সরকার বলেন, ‘‌সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিবাদ দরকার।’‌ দীপঙ্কর দে জানান, দেশের অর্থনীতি নিয়ে ওঁরা চিন্তিত নন। 
এদিন সাংবাদমাধ্যমে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‌জোর করে আইন চাপানো উচিত নয়। বিশৃঙ্খলাও উচিত নয়।’‌ চিত্রনির্মাতা বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত বলেন, ‘‌হিংসার পথে প্রতিবাদ নয়।’‌ নাট্যব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, ‘‌ট্রাম, বাস পোড়ালে মানুষের ক্ষতি হবে।’ অভিনেত্রী অপর্ণা সেনের বক্তব্য, ‘‌ভাঙচুর না করে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করুন।’‌ অভিনেতা কৌশিক সেন বলেছেন, ‘‌অশান্তি হলে বিজেপি–রই সুবিধে।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top