আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বামপন্থী কবি মন্দাক্রান্তা সেনের একটি পোস্ট নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। পোস্টটির উদ্দেশ্য ছিল পুরুষতন্ত্রের নিন্দা কিন্তু হয়ে দাঁড়াল নিন্দনীয় পুরুষতান্ত্রিক একটি পোস্ট। একের পর এক বিরোধী পোস্টে ভরে গেছে ফেসবুক। 
হায়দরাবাদ কাণ্ডের প্রসঙ্গ নিয়ে একটি টক শো অনুষ্ঠিত হয়েছিল একটি টেলিভিশন চ্যানেলে। বক্তা হিসেবে সেই অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত ছিলেন কবি মন্দাক্রান্তা সেন। অভিযুক্তদের এনকাউন্টার করার পক্ষে ছিলেন তিনি। বিপক্ষে ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের একজন সদস্য। তর্ক হয়। কিন্তু আসল সমস্যার শুরু হয় শো–এর পরে। কবি মন্দাক্রান্তার পোস্ট থেকে জানা যায়, দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয় এনকাউন্টারের পক্ষে ও বিপক্ষে। মানবাধিকার কর্মী জানান, তাঁর মতে মৃত্যুদণ্ড কোনও পথ হতে পারে না। নিজের কন্যার ক্ষেত্রে হলেও তিনি মৃত্যদণ্ড না, সংশোধনের পথ বেছে নেবেন। এই প্রসঙ্গে কবি পোস্টের শেষে লেখেন,

‘‌আমি একদিনের জন্য পুরুষ হতে চাই। আপনার কন্যাকে ধর্ষণের বিভৎস মজা লুটে নিতে চাই। নিয়ে মেরে দিতে চাই। আমার মৃত্যুদণ্ড হলে জানি আপনিই আমার হয়ে লড়বেন। আমাকে শুধু একটুখানি সশোধন করে দেবেন স্যার। আমিও বলব, স্যার আর করব না। ব্যাস, মিটে যাবে।’‌‌   

বিখ্যাত বামপন্থী কবি ও বুদ্ধিজীবী মন্দাক্রান্তা সেনের এই ধরণের বিভৎস কল্পনার কথা শুনে আঁতকে উঠেছে বহু মানুষ। অনেকেই মনে করছেন, এরকম বক্তব্য একজন সম্ভাব্য ধর্ষকই করতে পারেন, বা তাঁর কথার জন্য তাঁকে ধর্ষণের সংস্কৃতিরই একজন ভেবে নিলে ভুল হবে না।
বিরোধী পোস্ট পড়ে মন্দাক্রান্তা এর পাল্টা যুক্তি দিয়ে আর একটি পোস্ট করেন। পোস্টের শুরুতে তিনি ক্ষমা চান সেই সকল মানুষের কাছে যাঁরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন তাঁর পোস্ট পড়ে। তাঁর বক্তব্য ঐ কথাগুলি শুধুমাত্র তাঁর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলতে চেয়েছিলেন তিনি যদি একজন ধর্ষক হন, এই দেশ তাঁকে উচিত শাস্তি দেবে না বরং তাঁর মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করবেন অনেকে। তাঁর পোস্টের কথাগুলির ভিতরের ‘‌গভীর যন্ত্রণার নিহিত অর্থ ও তাৎপর্য’‌ না বুঝতে পারলে তাঁর কিছু করার নেই বলে শেষে জানিয়েছেন তিনি।  
প্রশ্ন হল, পুরুষতন্ত্রের পাশবিকতাকে অঙ্কুরে বিনাশ করার কথা বলেন এঁরা। কিন্তু পথ হিসেবে কি বেছে নিচ্ছেন সেই পাশবিকতাকেই?‌

জনপ্রিয়

Back To Top