‌‌তারিক হাসান: ‌‘‌আমি ঠিক রাস্তায় চলব’‌। ‘‌মোবাইলে কথা বলব না’‌।
এটা স্কুলের ব্ল্যাক বোর্ডে কোনও স্কুল পড়ুয়ার বক্তব্য নয়। এটা পথচলার নিয়ম ভাঙায় রাস্তার পাশে রাখা বোর্ডে বাইক, গাড়ি চালকদের বয়ান। নিজেদের ভুলের কথা বোর্ডে লেখার পর পাশে লিখতে হচ্ছে নিজের নামও। নিয়ম না মানায় এভাবেই পথের পাশে পথচলার পাঠ শিখতে হচ্ছে বাইক, গাড়ির চালক এবং পথচারীদের।
এদের কারও অপরাধ হেলমেট না পরে বাইক চালানো তো কারওর ঠিকঠাক হেলমেট না পরা। কেউ আবার সিগনাল না মেনে বাইক, গাড়ি নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
আইন্দ্রি দাস নামে একজন লিখেছেন, ‘‌এবার থেকে ঠিকঠাক রাস্তায় চলব’‌। পঙ্ক জয়সওয়াল নামে এক ব্যক্তি বলেছেন, ‘‌আমি ভুল দিকে গাড়ি চালাব না।’‌ মোবাইল কানে পথচলা একজন লিখেছেন, ‘‌আমি ট্রাফিক আইন ও নিয়ম মেনে চলব। মোবাইলে কথা বলব না।’‌ এক ব্যক্তি আবার বলেছেন, ‘‌আমি সিগনাল ভাঙব না। সিট বেল্ট পরে গাড়ি চালাব।’‌
ছোটখাটো ট্রাফিক আইন ভাঙায় বোর্ডে নিজের ভুলের স্বীকারোক্তি দেওয়ার সময় পেছনে কড়া মাস্টারমশাইয়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট। নিয়ম ভাঙায় অভিনব এই ব্যবস্থা দেখা গেল কসবা ট্রাফিক গার্ডের উদ্যোগে রুবির মোড়ে। 
জরিমানা না করে গাড়ির চালক, পথচারীদের শিক্ষাদানের এরকম অভিনব উদ্যোগ কেন?‌ ‌কসবা ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট সুজয় দাস জানালেন, ‘‌জরিমানা করে অনেক সময়ই লাভ হয় না। আবারও নিয়ম ভাঙা হয়। তাই অভিনব এই উদ্যোগ।’‌ ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পথচলার নিয়ম ভাঙলে জরিমানা হয়। তারপরও কিন্তু ট্রাফিক নিয়ম ভাঙার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই এরকম অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাড়ি থেকে নেমে বোর্ডে লেখার সময় পথচলতি মানুষ তাকিয়ে দেখবেন। তাঁরাও জানতে পারবেন কী কারণে বোর্ডে এরকম লিখতে হচ্ছে। ফলে তাঁরাও সতর্ক হবেন। আর মোবাইল কানে রাস্তা পার হওয়াটা তো প্রায় মহামারীর পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই পথের আইন মানতে একটু অন্য রকম ভাবনাচিন্তা করা হয়েছে।‌‌

কসবা ট্রাফিক গার্ডের সামনে। বৃহস্পতিবার। ছবি: প্রতিবেদক 

জনপ্রিয়

Back To Top