আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানেও আপাতত এনআরএস জট কাটার আশা নেই। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রইলেন জুনিয়র ডাক্তাররা।
শনিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ নবান্নে এনআরএস–এর আন্দোলনকারীদের মধ্যে চারজন প্রতিনিধিকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু নিজেরা আলোচনা শেষে এনআরএস–এর আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তাররা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা যখন কোনও ভুল করেননি তখন তাঁরা নবান্নে যাবেন না। মুখ্যমন্ত্রীকেই তাঁদের কাছে এসে ক্ষমা চাইতে হবে। তাঁরা বলেছেন, ‘‌শনিবার বিকেল পাঁচটা কেন, উনি এখনই আসলে আমরা এখনই কথা বলব।’‌ 
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্কট কাটানোর লক্ষ্যে নিজেদের উদ্যোগে শুক্রবার সন্ধ্যা ছ’‌টা নাগাদ বিশিষ্ট চিকিৎসক সুকুমার মুখার্জির নেতৃত্বে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন চিকিৎসক মাখনলাল সাহা, অলকেন্দু ঘোষ, প্লাবন মুখার্জি এবং অভিজিৎ চৌধুরি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনা শেষে মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা এনআরএস–এ পৌঁছে দিতে গিয়ে স্বাস্থ্য–শিক্ষা অধিকর্তা প্রদীপ মিত্র ফের বিক্ষোভের মুখে পড়েন।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকুমার মুখার্জি পরে বললেন, ‘উনি আমাদের ডাকেননি। আমরা নিজেরাই এসেছিলাম। ছাত্রদেরও আসতে বলেছিলাম। কিন্তু ওদের বৈঠক চলছে বলে আসতে পারেনি। ওনার তরফ থেকে যে নিরাপত্তা নেওয়া দরকার তার খসড়া দিয়েছেন।’ সুকুমার মুখার্জি আরও জানালেন, গত সোমবারের ঘটনায় যাজের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের জামিন নাকচ হয়েছে। সরকারের তরফে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে সব ব্যবস্থাই করা হয়েছে। 
এর কিছু আগেই সঙ্কট কাটাতে এবার মুখ্যমন্ত্রীকে ডেকে পাঠান রাজ্যপাল। সেই বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে রাজভবনের তরফে। এদিন রাত আটটা নাগাদ মল্লিকবাজারের আইএনকে হাসপাতালে এনআরএস–এর জখম জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখার্জিকে দেখতে যান রাজ্যপাল কেশরিনাথ ত্রিপাঠী। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জট কাটার আশাপ্রকাশ করেন রাজ্যপাল। আইএনকে–তে যাওয়ার আগে রাজ্যপাল একাধিকবার চিকিৎসক এবং প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে এদিন আলোচনা করেছিলেন। 
ছবি :‌ শিখর কর্মকার

জনপ্রিয়

Back To Top