আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দমকলের ২০টি ইঞ্জিনের দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা প্রায় ৬.‌৩০ মিনিট নাগাদ নিয়ন্ত্রণে এল নন্দরাম মার্কেটের আগুন। তবে কুলিং ডাউনের কাজ আপাতত চলবে। জানিয়েছে দমকল। কারণ মার্কেটের ৯তলায় যেখানে আগুন লেগেছিল, সেই তলা থেকে সন্ধ্যাতেও বেরোতে দেখা যায় কালো ধোঁয়া। তাই এখনও কিছু কিছু পকেট ফায়ার রয়ে গিয়েছে বলে অনুমান দমকলের। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও জানা না গেলেও দমকলের প্রাথমিক অনুমান শর্ট সার্কিটের কারণেই অগ্নিকান্ড। 
পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে শনিবার বিকেল ৩.‌৩০ মিনিট নাগাদ আগুন লাগে বহুতলটির ৯তলার একটি কাপড়ের গুদামে। আগুন দেখতে পেয়ে ব্যবসায়ীরা প্রাথমিকভাবে নিজেদের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও উত্তাপ উত্তরোত্তর বেড়ে চলায় তা সম্ভব হয়নি। কাপড়ের মতো দাহ্য পদার্থে ঠাসা গুদামে মুহূর্তে জ্বলে ওঠে আগুন। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ পৌঁছয় দমকলের ছয়টি ইঞ্জিন। পরে আরও ইঞ্জিন যায়। কিন্তু জলের পাইপ ৬তলা পর্যন্ত আসার পর খুলে যাওয়ায় অসুবিধায় পড়েন দমকলকর্মীরা। পরে নন্দরাম মার্কেট লাগোয়া ত্রিপল পট্টির ছাদে উঠে জল দেওয়া হয়। আশপাশের বাড়িগুলিতেও চলে কুলিং ডাউন প্রক্রিয়া। 
ঘটনাস্থলে যান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, দমকলের ডিজি, ডিসি ট্র‌্যাফিক সহ পুলিস, দমকল এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। আগুন লাগতেই পুরো বাড়ি খালি করে ব্যবসায়ীরা নিজেদের দোকানের জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যান। তাঁদের অভিযোগ, আজও জলের পাইপলাইন এবং অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থায় কিছু ত্রুটি রয়েছে।
নন্দরাম মার্কেটে আগুন লাগার ফলে বড়বাজারে ট্র‌্যাফিক পরিষেবা বিঘ্নিত হয়। এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিস ব্রেবোর্ন রোডের একটি লেন বন্ধ রেখে আরেকটি লেন দিয়েই ধীর গতিতে সব গাড়ি পাস করাতে থাকে। ফলে গাড়ির গতি কমে গেলেও থমকে যায়নি।    
২০০৮ সালে জানুয়ারির ১২ তারিখ শনিবার ভোররাত একটা নাগাদ বিধ্বংসী আগুন লেগেছিল নন্দরাম মার্কেটে। যমুনালাল বাজাজ স্ট্রিট এবং ব্রেবোর্ন রোডের মাঝে ত্রিপল পট্টিতে প্রথম আগুন লেগেছিল। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ১৩ তলা নন্দরাম মার্কেট সম্পূর্ণ আগুনের গ্রাসে চলে যায়। চার হাজারেরও বেশি দোকান ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল। কয়েকশো কোটি টাকার লোকসান হয়েছিল। প্রায় সপ্তাহব্যাপী ধরে জ্বলতে থাকা আগুন নেভাতে দমকল, পুলিস ছাড়া সেনা এবং বায়ুসেনাও নামানো হয়েছিল।  

জনপ্রিয়

Back To Top