আজকালের প্রতিবেদন: চাকরিপ্রার্থীর থেকে টাকা নেওয়ার খবর ছিল আগাম। সেই মতো নবান্নের পাঁচতলায় কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে এদিক–‌ওদিক ছড়িয়ে ছিলেন গোয়েন্দারা। তবে নজর ছিল স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আপার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রতুল মজুমদার এবং চন্দননগর কমিশনারেটের কনস্টেবল দেবাশিস বড়ুয়ার ওপর। গোয়েন্দারা এমনভাবে ছড়িয়ে ছিলেন যাতে কোনও মতে সন্দেহ না হয়। কয়েকজন বসেছিলেন দর্শনার্থী সেজে। আগে থেকেই কথা ছিল, শুক্রবার রফার ২০ হাজার টাকার প্রথম কিস্তি ৫ হাজার দেওয়া হবে। চাকরি প্রার্থী সেই টাকা দেওয়ার সময় হাতেনাতে অভিযুক্তদের ধরেন দুর্নীতিদমন শাখার গোয়েন্দারা। এদিকে, ধৃতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর ৪৮ ঘণ্টা জেল হেফাজতে কাটালে নিয়মানুসারে তাঁরা সাসপেন্ড হবেন।
যাঁর কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল তিনি মৃত এক সরকারি কর্মীর পোষ্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অনুমোদন দেওয়ার পর তাঁর চাকরিও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়ার নামে ওই দুই ব্যক্তি ঘুষ চান বলে অভিযোগ। চাকরিপ্রার্থী ওই ব্যক্তি বিষয়টি দুর্নীতিদমন শাখায় জানিয়েছিলেন। প্রতুল মজুমদার স্বরাষ্ট্র দপ্তরে মৃতের পোষ্যদের চাকরি দেওয়া সংক্রান্ত ফাইল নিয়ে ইউডি অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। আর দেবাশিস তাঁকে ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ। এই দুজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠছিল। নতুন করে একটি অভিযোগ পেতেই শুক্রবার 
ফাঁদ পাতা হয়। গোয়েন্দাদের পরামর্শ মতো ওই ব্যক্তি রাজি হন টাকা দিতে। টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলার পর তাঁদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধৃতদের শনিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে সোমবার অবধি জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেদিন ধৃতদের দুর্নীতিদমন শাখার সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করা হবে।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top