রিনা ভট্টাচার্য- লকডাউনের জেরে রাজ্য সরকারের সব অফিস কাছারি বন্ধ। কিন্তু অর্থ দপ্তর, স্বরাষ্ট্র দপ্তর, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, পুলিশ প্রশাসনের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর আংশিক খোলা রয়েছে। সেই সব দপ্তরের কর্মীদের নবান্নে আসতে হচ্ছে। বেশিরভাগ কর্মী তাঁদের কাজ ই–অফিসের মাধ্যমে সেরে নিচ্ছেন। নিজেদের নিরাপদ রাখতে মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস পরে তাঁদের কাজ করতে হচ্ছে। তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে ই–অফিসে হচ্ছে না। তখন ফাইল ঘাঁটতে হচ্ছে। অনেক ফাইলে সই করতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে হাতে গ্লাভস পরে নিচ্ছেন তাঁরা। কোনও রকম ঝুঁকি নিতে তাঁরা রাজি নন। করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ তো আছেই। কর্মীরা ঠিক সময় বেতন না পেলে সমস্যায় পড়বেন। ট্রেজারির কাজের জন্য অনেককে বাড়ি থেকে আসতেই হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নির্দেশ দিয়েছেন, প্রয়োজনে আধিকারিকরা বাড়িতে থেকে কাজ করুন। ই–অফিসের সাহায্য নিন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ তাঁরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করছেন। জরুরি পরিস্থিতিতে নবান্নে যে আধিকারিক ও কর্মীরা আসছেন, তাঁরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করে নিচ্ছেন। এছাড়া পূর্ত দপ্তরের অধীনে বেসরকারি সংস্থা প্রতিদিন নবান্নকে জীবাণুমুক্ত করার কাজ করছে।
নবান্নে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কন্ট্রোল রুম দিনরাত খোলা রয়েছে। এখানকার কর্মী–আধিকারিকদের  মাস্ক পরে কাজ করতে দেখা গেল। করোনা মোকাবিলায় হেল্পলাইনের কাজও করছে এই কন্ট্রোল রুম। প্রতিদিন কয়েক হাজার ফোন ধরতে হচ্ছে তাঁদের। কেউ করোনার চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানছেন। বিদেশ থেকে এসে কাউকে ঘুরে বেড়াতে দেখলে অনেকে অভিযোগ জানাচ্ছেন। অনেকে ভিনরাজ্যে আটকে আছেন। তাঁরা কীভাবে ফিরবেন জানতে চাইছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কোয়ারেন্টিনে কীভাবে থাকবেন তা নিয়েও পরামর্শ চাইছেন অনেকে। কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাঁদের প্রত্যেকের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন। অন্যকে নিরাপদে রাখতে গেলে নিজেদেরও সুস্থ থাকতে হবে, একথা মাথায় রেখেই তাঁরা কাজ করছেন।‌‌

নবান্নে অর্থ দপ্তরে কর্মরত আধিকারিকেরা। বুধবার। ছবি:‌ রিনা ভট্টাচার্য

জনপ্রিয়

Back To Top