আজকালের প্রতিবেদন: ‌দু’‌জনেই খুব ভাল বন্ধু। একসঙ্গেই প্রোমোটিংয়ের ব্যবসা শুরু করেছিল। একই ফ্ল্যাটে দু’‌জনেই থাকে। কিন্তু মাত্র ৩০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে নতুন ফ্ল্যাটে আসার পর শুরু হল সঙ্ঘাত। সেই সঙ্ঘাত শেষ পর্যন্ত পৌঁছোল খুনোখুনিতে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় কড়েয়া থানার ব্রাইট স্ট্রিটে ফজরুল রহমান‌কে (‌ডাকনাম আতিকুর)‌ পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করল ভোলা ওরফে শেখ ইদ্রিশ। তারপর সপরিবার ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে পালিয়েও গেল। সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিস। বাকিদেরও সন্ধান চলছে। 
 যে ৩০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে সমস্যা একসময় ওই ফ্ল্যাট তৈরির কারিগর খুন হওয়া ফজরুল বলেছিল, ৪ হাজার টাকা বর্গফুট হিসেবে ও আরও কিছু খরচপাতি ধরে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ভোলাকে দিয়ে দেবে।

ভোলা যে ৩০ বর্গফুট জায়গা ঘিরে রেখেছে, তা যেন ছেড়ে দেয়।  কিন্তু ভোলা অনড়। দ্রুত টাকা পাওয়া নিয়েই প্রায়ই তর্কাতর্কি, হাতাহাতি হত। এলাকায় ফজরুল নির্বিরোধী ভাল মানুষ বলেই পরিচিত। ভোলারও যথেষ্ট প্রতিপত্তি। প্রভাবশালীদের সঙ্গে ওঠাবসা আছে। তার ডান হাতেও অনেক বড় বড় লোক। ইয়ার দোস্তও কম নয়। গুলি করার সময় চারজনই বাইরে থেকে এসেছিল। তাদের মধ্যে একজনের নাম গব্বর। ভোলার পিস্তলটি সিঙ্গল শটার, না নাইন এমএম, তা দেখছে পুলিস।
 এদিন সকালে অন্যান্য দিনের মতোই ফ্ল্যাটের চারতলায় মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিল ভোলা। অন্য ফ্ল্যাটে ফজরুলের ছেলে স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল। স্ত্রী সালমা বিবি রান্নাবান্না করছিলেন। হঠাৎই এলাকাবাসীরা লক্ষ্য করেন, গলির ভিতর মুখোমুখি ঝগড়া শুরু হয়েছে ভোলা ও ফজরুলের।

আগেও হয়েছে ভেবে তেমন গুরুত্ব দেননি তাঁরা। হঠাৎই দেখা যায়, ভোলা কোমর থেকে পিস্তল বের করে ফজরুলের বুকে চালিয়ে দেয়। গুলির ধাক্কায় রাস্তাতেই ছিটকে পড়ে ফজরুল। ভোলার সঙ্গীসাথীরা দেরি না করে ছুটে পালায়। সঙ্গে সঙ্গে এ খবর এলাকায় চাউর হয়ে যায়। ভোলার স্ত্রী ও মেয়েরা ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। ভোলার বিরুদ্ধে এর আগে তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সে গলায় মোটা সোনার চেন ও স্যুট পরে হাজির হয়। দান–‌খয়রাতিও করে। কিন্তু ভোলা তার বন্ধু ফজরুলকে গুলিই করে দেবে এমনটা ভেবে উঠতে পারেননি এলাকাবাসীরা। 
 আতিকুরকে গুলি করেছে ভোলা, খবর পেয়েই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আতিকুরের অনুগামীরা কোদাল, গাঁইতি ও হাতুড়ি নিয়ে ভোলার অফিস আক্রমণ করে। ভাঙচুর করে ফেলা হয় মুহূর্তের মধ্যে।

যে গ্যারেজে ভোলা বাইক রাখত, সেই গ্যারেজেও ভাঙচুর করা হয়। ভোলার প্রোমোটিংয়ের অফিসে ঢুকে ফ্ল্যাট নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তিপত্র, আদালতের কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয়। অভিযোগ,গ্যারেজটিও ভোলা বেআইনিভাবে তৈরি করেছে। ব্যবসা ঘিরে দুজনের সঙ্ঘাত নিয়ে থানায় জানানো হয়েছিল বলে ফজরুলের বোন জানিয়েছেন। ফজরুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। কড়েয়া থানা থেকে বিরাট পুলিস বাহিনী আসে। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, সব অপরাধীকেই ধরা হবে। যান স্থানীয় বিধায়ক ইকবাল আহমেদও।  
ভোলার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীদের একাংশ নানা বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। যে চারজন বহিরাগত ভোলার সঙ্গে এসেছিল তাদের সন্ধানে সিসি ক্যামেরার ছবি দেখছে পুলিস। ‌‌

মৃত ফজরুল রহমান‌। ভোলা । ভাঙচুর করে অফিসে আগুন দিল জনতা। স্বজনের কান্না।

জনপ্রিয়

Back To Top