আজকালের প্রতিবেদন: সংরক্ষণের জেরে এবারের পুর–‌নির্বাচনে নিজেদের ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না বিধাননগর পুরনিগমের এক মেয়র পারিষদ এবং বরো কমিটির এক চেয়ারম্যান। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের ওয়ার্ড এবার তফসিলি জাতির প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। আবার মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হওয়ায় নিজেদের ওয়ার্ডে দাঁড়াতে পারবেন না কয়েকজন কাউন্সিলর। শুক্রবার বিধাননগর পুরনিগমের আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত এই খসড়া বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।
খসড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মেয়র পারিষদ (‌আলো)‌ সুধীর সাহার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। ৪ নম্বর বরো কমিটির চেয়ারম্যান বাণীব্রত ব্যানার্জির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডটি সংরক্ষিত তফসিলি উপজাতি সাধারণ প্রার্থীর জন্য। বিধাননগর পুরনিগমের ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ড তফসিলি জাতির প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪, ২৩ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা তফসিলি প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট। খসড়া তালিকায় ১টি ওয়ার্ড নির্দিষ্ট করা হয়েছে তফসিলি উপজাতির প্রার্থীর জন্য। এ ছাড়া মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত সাধারণ আসন রয়েছে ১১টি। অর্থাৎ সংরক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে ২০টি ওয়ার্ডকে। মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ড, মেয়র পারিষদ (‌পরিবেশ)‌ রহিমা বিবির (‌মণ্ডল)‌ ২ নম্বর ওয়ার্ড এবার মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। সাধারণ আসন হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে ডেপুটি মেয়র তাপস চ্যাটার্জির ৩ নম্বর ওয়ার্ড, চেয়ারপার্সন অনিতা মণ্ডলের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড, মেয়র পারিষদ (‌আবর্জনা সাফাই)‌ দেবাশিস জানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড, মেয়র পারিষদ (‌স্বাস্থ্য)‌ প্রণয় রায়ের ১০ নম্বর ওয়ার্ড, মেয়র পারিষদ (‌শিক্ষা)‌ রাজেশ চিরিমারের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং মেয়র পারিষদ (‌ক্রীড়া)‌ দেবরাজ চক্রবর্তীর ৭ নম্বর ওয়ার্ড। প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের ৩১ নম্বর এবং প্রাক্তন মেয়র পারিষদ প্রসেনজিৎ সর্দারের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডও সাধারণ আসন। মেয়র পারিষদ (‌জল সরবরাহ)‌ বীরেন বিশ্বাসের ২২ নম্বর ওয়ার্ড এবার তফসিলি জাতির সাধারণ প্রার্থীর জন্য সংরক্ষিত। ১ নম্বর বরো কমিটির চেয়ারম্যান শাহনওয়াজ আলি মণ্ডলের (‌ডাম্পি)‌ ৪ নম্বর, ২ নম্বরের চেয়ারম্যান মণীশ মুখার্জির ৯ নম্বর, ৩ নম্বরের চেয়ারম্যান সুজিত মণ্ডলের ১৫ নম্বর এবং ৫ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন নীলাঞ্জনা মান্নার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডও সাধারণ প্রার্থীর জন্য নির্দিষ্ট। ৬ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন মিনু দাস চক্রবর্তীর ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডটি তফসিলি জাতির মহিলা প্রার্থীর জন্য সংরক্ষিত। সংরক্ষণের জন্য এবার নিজেদের ওয়ার্ডে লড়তে পারবেন না ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনিন্দ্য চ্যাটার্জি, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের নির্মল দত্ত, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিকাশ নস্কর, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের আশা নন্দী, ১২ নম্বরের আজিজুল হোসেন মণ্ডল, ৩৬ নম্বরের প্রবীর সর্দার, ১৬ নম্বরের সন্দীপ বাগুই প্রমুখ। অনিন্দ্য, বিকাশ, আজিজুল, প্রবীর, সন্দীপের ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। নির্মলের ওয়ার্ড তফসিলি জাতির সাধারণ প্রার্থী ও আশার ওয়ার্ড তফসিলি জাতির মহিলা প্রার্থীর জন্য সংরক্ষিত। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তীর জারি–‌করা এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সাধারণ মহিলা প্রার্থীর জন্য সংরক্ষিত ২, ৫, ৮, ১২, ১৬, ১৯, ২৫, ২৯, ৩২, ৩৬ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ড। ১১, ২০, ২২, ৩৫ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত।

‌উত্তর ২৪ পরগনা তালিকা প্রকাশিত

সোহম সেনগুপ্ত: উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পুরসভাগুলির সংরক্ষিত আসনের তালিকা প্রকাশ করল জেলা প্রশাসন। শুক্রবার সংরক্ষণের ওই খসড়া তালিকা বারাসতের জেলাশাসকের দপ্তরে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। তালিকায় মোট আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের মধ্যে পড়েছে। খসড়া তালিকা নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন কাউন্সিলররা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি ওয়ার্ড মহিলা সংরক্ষণের মধ্যে পড়েছে। যার মধ্যে ২টি তফসিলি জাতি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। অন্যদিকে, বারাসত পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টি ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২টি তফসিলি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। বারাসত পুরসভার উপপুরপ্রধান অশনি মুখার্জির ২৫ নম্বর ওয়ার্ডটি এবার মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। বারাসত পুরসভার পুরপ্রধান সুনীল মুখার্জি সংরক্ষিত ওই তালিকাকে স্বাগত জানালেও বামফ্রন্টের কাউন্সিলর তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ফরওয়ার্ড ব্লকের সম্পাদক সঞ্জীব চ্যাটার্জি বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top