‌আজকালের প্রতিবেদন: রবিবার সাত সকালে কাউকে কিছু না জানিয়ে দক্ষিণ কলকাতার কয়েকটি জায়গায় গিয়ে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করিয়ে দেন মেয়র ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। টালিগঞ্জ থানার উল্টোদিকে পরিত্যক্ত একটি বাস দেখে মেয়র বিরক্তি প্রকাশ করেন। এখানেও আবর্জনা জমে ছিল। মেয়রের সঙ্গে ছিলেন পুরসভার ডিজি শুভাশিস চ্যাটার্জি, মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার ও পুরসভার কর্মীরা। টালিগঞ্জ স্টেশনের কিছুটা দূরে সিইএসটি–‌র সামনে এই পরিত্যক্ত বাসটিকে সরাবার জন্য ডিজিকে নির্দেশ দেন মেয়র। ক্রেন এনে বাসটিকে সরানো হয়। 
টালিগঞ্জ স্টেশনের গায়ে রাস্তায় আবর্জনার স্তূপ দেখে মেয়র রেলের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‌আবর্জনা পরিষ্কারের দায়িত্ব রেলের। রেল কেন এই কাজে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করছে তা জানতে চেয়ে আজই রেলকে চিঠি দেব। ‌ময়লা থেকে শুধু দূষণই নয়, ডেঙ্গু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।’ এদিন মেয়র প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে বেশ কয়েকটি জায়গায় ফুটপাথের ওপর জমানো কংক্রিটের স্তূপ দেখে পুরকর্মীদের পরিষ্কার করবার নির্দেশ দেন। 
কয়েকটি দোকানদারকে বলা হয় দোকানের জিনিসপত্র ফুটপাথে স্তূপ করে রাখা যাবে না। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাফেরায় অসুবিধা হয়। তিনি এসব জিনিস অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। লেক গার্ডেন্সের ব্রিজে ওঠার আগে জঞ্জালের স্তূপ দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন। ডিজির সঙ্গে কথা বলে জঞ্জাল পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। এরপর মেয়র চেতলা সিআইটি মার্কেটে আসেন। এখানে একটি কম্প্যাক্টর মেশিন বসানো হয়েছে। এটি ঠিকঠাক চলছে কিনা তা দেখেন। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথাও বলেন। টালিগঞ্জের রেল স্টেশনের পাশের রাস্তা দিয়ে অনেকেই তখন প্রাতর্ভ্রমণ করছিলেন। এত সকালে মেয়রকে দেখে তাঁরা অবাক হন। কেউ কেউ নমস্কার বিনিময় করেন। কিছুদিন আগে চেতলা এলাকায় জঞ্জাল পরিষ্কার অভিযানে নামেন মেয়র। ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতার পদযাত্রাও করেন। 
সম্প্রতি কাউন্সিলরদের বৈঠকে মেয়র স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিজেদের ওয়ার্ড পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ফুটপাথে কোনও আবর্জনা জড়ো  করে রাখা যাবে না। কোনও ভাঙা বা পরিত্যক্ত গাড়ি যেন না পড়ে থাকে। এই সব গাড়িতে জল জমে মশার লার্ভা জন্মাচ্ছে। শহর পরিষ্কার রাখতে তিনি কাউন্সিলরদের প্রতিদিন এলাকায় ঘুরতে বলেছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top