বিভাস ভট্টাচার্য: মাটির নীচেও কাজের সময়ে ব্যবহার করতে হবে মাস্ক। পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁরা কাজে যোগ দিতে আসছেন তাঁদের প্রত্যেককে বাধ্যতামূলকভাবে থাকতে হবে কোয়ারেন্টিনে। প্রয়োজনে প্রত্যেক শ্রমিকের করাতে হবে করোনা পরীক্ষা। পরীক্ষা হবে আধিকারিকদেরও। করোনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সতর্কতা মেনেই কাজ শুরু করতে চান ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রো কর্তৃপক্ষ। 
এ বিষয়ে ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রোর একটি সূত্র জানিয়েছে, কোনও অবস্থাতেই ঝুঁকি নেওয়া হবে না। কারণ, মাটির ওপর এবং নীচ, দু’‌জায়গাতেই কাজ হবে। সেজন্যই ঠিকাদারদের বলে দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি শ্রমিকের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তারপর তাঁকে কাজে লাগাতে। করোনার বিষয়ে সরকারি যে নির্দেশিকা আছে তা সম্পূর্ণ অনুসরণ করতে হবে। মাটির ওপরে বা নীচে, সব জায়গাতেই কাজের সময় বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করতে হবে মাস্ক। মানতে হবে অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি। লকডাউনের সময় অনেক শ্রমিকই বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁদের অনেকেই ফিরতে শুরু করেছেন। শ্রমিক থেকে আধিকারিক, কাজ শুরুর আগে আমরা সকলের বিষয়েই নিশ্চিন্ত হতে চাই।
হাওড়া ময়দান থেকে শুরু হয়ে ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রোপথ গেছে বিধাননগরে সেক্টর ফাইভ স্টেশন পর্যন্ত। ১৬.৬ কিলোমিটার এই রেলপথে ট্রেন মাটির ওপর দিয়ে যাচ্ছে ৫.৮ কিলোমিটার। সেক্টর ফাইভ স্টেশন থেকে সল্টলেক স্টেডিয়াম স্টেশন পর্যন্ত মাটির ওপর এই পথটুকুতে পড়ছে ৬টি স্টেশন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এই স্টেশনগুলির মধ্যে প্রথম পর্বের ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেছেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। হাওড়া ময়দান থেকে ফুলবাগান স্টেশন পর্যন্ত মাটির নীচে বাকি ১০.৮ কিলোমিটার পথের ৬টি স্টেশনের মধ্যে কাজ এখনও চলছে। সল্টলেক স্টেডিয়াম থেকে এসে সুভাষ সরোবরের কাছে ট্রেন ঢুকে যাবে মাটির নীচে। 
লকডাউনের পর কাজ শুরু হলে ধরা হবে বিভিন্ন স্টেশনের বাকি কাজগুলি। সুড়ঙ্গ খোঁড়ার জন্য টানেল বোরিং মেসিন (টিবিএম) কবে থেকে ফের চালু করা হবে সে–সম্পর্কে ওই সূত্রটি নিশ্চয় করে কিছু জানাতে পারেনি। যে এলাকা দিয়ে টিবিএম চালানো হয়, নিরাপত্তার জন্য সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে হোটেলে বা কোনও অতিথিশালায় রাখা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এখন অনেকেই বাড়ি ছেড়ে হোটেলে উঠতে রাজি নাও হতে পারেন। সূত্রটি জানিয়েছে, কন্টেনমেন্ট জোনের বাইরে হোটেলের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। 
বৌবাজারে টিবিএম চলার সময় দুর্ঘটনা এবং পরবর্তীতে লকডাউন। কাজ শেষ করতে ইতিমধ্যেই সময় নষ্ট হয়েছে ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রো কর্তৃপক্ষের। যদিও তাঁদের আশা, নির্ধারিত সময় আগামী বছরের জুনের মধ্যেই গোটা পথেই ট্রেন চলাচল শুরু করা যাবে। ওই সূত্রটি জানিয়েছে, কাজ শুরু করার পর যাতে দ্রুত শেষ করা যায় সে–বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত আলাপ–আলোচনা চালাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের ভেতর কাজ শেষ করার বিষয়ে তাঁরা যথেষ্ট আশাবাদী।

জনপ্রিয়

Back To Top