সমীর দে, রিনা ভট্টাচার্য, ঢাকা ও কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর- শেখ হাসিনার কাছ থেকে সফরের আমন্ত্রণ পেয়ে বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার বিজয় প্রত্যাশা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সোমবার দ্বিপাক্ষিক দুটি প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে কলকাতা থেকে যুক্ত হয়েছিলেন মমতা। ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দিল্লি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর বাংলাদেশ–‌লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা। শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, ‘‌বাংলাদেশে আবার আসুন বেড়াতে, সেটাই চাই।’‌ তখন মমতা বলেন, ‘‌নিশ্চয়ই আসব। আপনি জিতুন, আমরা আসব আবার।’‌ বাংলাদেশে এই বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় সংসদের নির্বাচন। সেই নির্বাচনে জয়ী হলে টানা তিনবার সরকার গড়ার রেকর্ড করবে শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ। 
এদিন উদ্বোধন–‌করা দুটি প্রকল্পের একটি ছিল ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের আমদানি নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর গ্রিড থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আন্তঃবিদ্যুৎ সংযোগ গ্রিডের উদ্বোধন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে আরও ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রত্যাশা করেন। মমতা বলেন, ‘‌হ্যাঁ, আমি রাজি আছি। সরকার (‌দিল্লি)‌ থেকে ছাড়পত্র দিলেই আমরা করে দেব। কাজে লাগলেই ভাল।’‌ এখন ভারত থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ। নতুন ৫০০ মেগাওয়াট যুক্ত হওয়ার পর ভারত থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ দঁাড়াচ্ছে ১,১৬০ মেগাওয়াটে। এদিন আখাউড়া–‌আগরতলা রেল প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের কাজেরও উদ্বোধন করা হয়। আখাউড়া–‌আগরতলা ডুয়েল গেজ রেললাইন প্রকল্পের বাংলাদেশের অংশ এবং মৌলবি বাজারের কুলাউড়া–‌শাহবাজপুর রেল সংযোগের পুনর্বাসন প্রকল্প পুনঃপ্রকল্পের উদ্বোধন হয়। আগরতলার সঙ্গে বাংলাদেশের রেল সংযোগ ত্রিপুরা তথা উত্তর–‌পূর্বাঞ্চলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কলকাতা থেকে আগরতলার রেলপথে দূরত্ব এক–‌তৃতীয়াংশ হয়ে যাবে। এদিন আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনকে সরাসরি যুক্ত করা হয় অনুষ্ঠানে।
ভিডিও করফারেন্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘আজ থেকে আমরা আরও কাছে এলাম আর সম্পর্ক আরও গভীর হল। দিল্লিতে মোদির পাশে ছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ‌‌‌‌‌অন্য দিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জির সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব মলয় দে ও স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্য। বৈঠকের খবর জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় বলেন, মূলত আগরতলা–‌ঢাকা রেললাইন নিয়ে আলোচনা হয়। বহরমপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ চাইলে রাজ্য সরকার ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারে।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবও এই অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর আমন্ত্রণ পেয়ে বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ দেখান বিপ্লব দেব। বলেন, ‘‌আমি আসব আপনার কাছে।’‌ শেখ হাসিনা জানতে চান, ‘‌কবে?’‌‌ বিপ্লব বলেন, ‘‌‌আমি কোনও একটা কারিকুলাম বানিয়ে আসব। আপনার কাছেই আসব।’‌ বাংলাদেশের চঁাদপুরের কচুয়ার সন্তান বিপ্লব এই বছরের শুরুতে ত্রিপুরা রাজ্য নির্বাচনে বিজেপি–‌কে জয়ী করে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন তঁার বাবা–‌মা। 
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা সোমবার বিকালে হলেও রবিবার মধ্যরাত থেকেই পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভেড়ামারায় নবনির্মিত ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার হাই–‌ভোল্টেজ ডিসি ব্যাক–‌টু–‌ব্যাক স্টেশনের দ্বিতীয় পর্যায়েরও উদ্বোধন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় গ্রিডে নতুন–‌আসা ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট আসবে ভারতের এনটিপিসি থেকে। বাকি ২০০ মেগাওয়াট আসবে বেসরকারি কোম্পানি পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশন থেকে। পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা হয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয় ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর। ওই সঞ্চালন লাইন দিয়ে  ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা হয়ে আসছে আরও ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

জনপ্রিয়

Back To Top