আজকালের প্রতিবেদন: ‘‌বুলবুল’ মোকাবিলায় রাজ্য সরকার সমস্তরকম সতর্কতা অবলম্বন করেছে। নবান্নে খোলা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার জন্য কন্ট্রোল রুম। শনিবার কখনও বাড়ি থেকে, আবার কখনও নবান্নের কন্ট্রোল রুমে এসে তদারকি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। রাতভর তিনি নবান্নে ছিলেন। এদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তিনি নবান্নে আসেন। দোতলায় বিপর্যয় দপ্তরের পাশেই কন্ট্রোল রুম। সেখানে গিয়ে বসেন। আবার কখনও ১৪ তলায় নিজের ঘরে গিয়েও খোঁজখবর নেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কন্ট্রোল রুমে ছিলেন বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রী জাভেদ খান, মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা, ডিজি বীরেন্দ্র ও রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎ করপুরকায়স্থ। ৪০ জন অফিসার কাজ করছেন। কম্পিউটারের পর্দায় ‘‌বুলবুল’–এর‌ গতিবিধির ওপর মমতা ও জাভেদ খান নজর রাখেন। সারাদিন কোথায় কত বৃষ্টি হয়েছে, কী কী ক্ষতি হয়েছে, কত ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে সে সবই জেনে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আজ সারা রাত কন্ট্রোল রুমে থাকব।’‌ ‌২০১৫–য় ২ আগস্ট নবান্নে সারা রাত মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ওই সময় কয়েকটি জেলায় বন্যা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‌দক্ষিণবঙ্গে সাতটি জেলায় বুলবুল মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রশাসন প্রস্তুত। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করছে।
কলকাতা পুরসভাও বিপর্যয়ের ওপর নজর রাখছে।’‌ তিনি জানিয়েছেন, ‘‌ইতিমধ্যেই ১,৪৩,৮৬৪টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। অনেকে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে আসতে চাইছিলেন না। কিছুটা জোর করেই তাঁদের ত্রাণশিবিরে আনা হয়েছে। ওঁদের সাইক্লোন শেল্টার ও ফ্লাড শেল্টারে রাখা হয়েছে, কিছু রাখা হয়েছে বিভিন্ন স্কুলে। মোট ১৪৬টি রান্নাঘর করা হয়েছে। ২৩৮টি ত্রাণশিবির, ১০৩৫ সিভিক ভলান্টিয়ারকে কাজে লাগানোর জন্য রাখা হয়েছে, ৫২টি নৌকো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’‌ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‌দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলার মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে ৫৫ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা থেকে ১০০ জন, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ২,২০৪, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ১,০০০, হুগলি থেকে ৯,৪২৬, কলকাতা থেকে ২,৫০০ ও হাওড়া থেকে ১০,৪০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।’‌ মেদিনীপুরের অবস্থাও খারাপ। মমতা এদিন বলেন, ‘‌প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ওপর কারও হাত নেই। আমরা আয়লা দেখেছি, সুনামির অভিজ্ঞতা আছে আমাদের, তাই আমরা সব দিক থেকেই আগেভাগে কাজে নেমেছি। আগে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে হবে। সবসময় সরকার তাঁদের পাশে আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। এলাকার চিকিৎসকদেরও প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’‌ এদিন মুখ্যমন্ত্রী দুটি টুইট করেছেন। ‌টুইটে তিনি বলেছেন, ‘‌২৪ ঘণ্টা আমরা নজর রাখছি।’‌ তিনি লিখেছেন, ‘‌আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। শান্ত থাকুন। উদ্ধার ও ত্রাণকার্যে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। নিরাপদে থাকুন।’‌ অভিষেক ব্যানার্জি টুইটে লিখেছেন,‘‌অপ্রত্যাশিত খারাপ আবহাওয়ার দরুন উত্তর কলকাতা কর্মিসভা বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং নিরাপদে থাকুন।’‌‌‌‌ সোমবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক হবে না। কয়েকটি জেলা থেকে জেলাশাসক–সহ অনেকেই আসতে পারবেন না বলে মমতা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top