আজকালের প্রতিবেদন: সময়ের প্রবাহে ভেঙেচূরে, জীর্ণ। সংস্কারের অভাবে খসে পড়ছিল থাম, খিলানের আস্তরণ। নবজাগরণের কলকাতায় গড়ে ওঠা ৪৮বি মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের মল্লিকবাড়ির আনাচে কানাচে শিকড় গেড়েছিল বট, অশ্বত্থের চারা। ২ বছরের চেষ্টায় জরাজীর্ণ সেই বাড়ি যেন ‘‌টাইম মেশিন’‌–এ চড়ে ফিরে গেল পুরনো কলকাতায়। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো বাড়ির অলিন্দে ফিরল আগের সেই চাকচিক্য। দেশ–বিদেশের পর্যটকরা ঘুরে দেখবেন পুরনো কলকাতার ঐতিহ্য। বাড়ির ভেতরের কারুকার্য দেখে উপভোগ করবেন ২০০ বছর আগের কলকাতার চালচিত্র। 
৪৮বি মুক্তারামবাবু স্ট্রিটে ৩৬ কাঠা জমির ওপর প্রাসাদ তৈরি করেছিলেন বাবু স্বরূপচন্দ্র মল্লিক। কালক্রমে তা লোকমুখে পরিচিত হল মল্লিক বাড়ি নামে। ঠিক এর পাশেই রাজা রাজেন মল্লিকের মার্বেল প্যালেস। তৈরি হয়েছিল ১৮৩৫ সালে। মল্লিকবাড়ি অবশ্য এর চেয়েও পুরনো। ভেতরে রয়েছে একটি মন্দির। বয়সের ভারে সেটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। এক সময় গমগম করত বাড়িটি। তবে গত ৩০/‌৪০ বছরে বাড়িটিতে কেউই আর থাকতেন না। বাড়ির কাঠামোটাই শুধু দাঁড়িয়ে ছিল।
‘‌হেরিটেজ’‌ তকমা পাওয়া বাড়িটিতে ২০০ বর্গফুটের ছোট্ট একটি ঘরে ৪২ বছর আগে ব্যবসা শুরু করেছিলেন দুই বন্ধু রাধেশ্যাম আগরওয়াল এবং রাধেশ্যাম গোয়েঙ্কা। ১৯৭৪ সালে এই বাড়িটিতেই তাঁরা গড়ে তোলেন ‘‌ইমামি’‌ সংস্থা। ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়িটির প্রতি তাঁদের আবেগও বেড়ে চলে। এক সময় ইমামির উৎপাদনও হত এই বাড়িটি থেকেই। ২০০৮ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই বাড়িটি আগের চেহারায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সচেষ্ট হয় সংস্থাটি।
রবিবার ঐতিহ্য মেনে আগের চেহারায় ফিরিয়ে আনা বাড়িটিতে এক অনুষ্ঠানে ইমামি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুশীল গোয়েঙ্কা বললেন, ঐতিহ্য বজায় রেখেই বাড়িটিতে সংস্কার করা হয়েছে। তবে ব্যবসা নয়, জনহিতকর কাজেই বাড়িটি ব্যবহার করা হবে। এখানে দাতব্য চিকিৎসালয়ের পাশাপাশি থাকছে গ্রন্থাগার, ঐতিহ্য নিয়ে পড়াশুনো, কারিগরি প্রশিক্ষণ, মেয়েদের হাতের কাজ শেখানোর ব্যবস্থা। পুরোটাই হচ্ছে ‘‌হেরিটেজ’‌ অক্ষত রেখে।
তাঁরই কথার রেশ ধরে আলোচনাচক্রে প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও জহর সরকার বললেন, ঐতিহ্য আমাদের দেশে অগ্রাধিকার পায় না। আসলে আমরা ঐতিহ্য নিয়ে ভাবি না। খুব ভাল লাগল এখানে সেটা করা হয়েছে। ঐতিহ্য নিয়ে বক্তব্য পেশ করেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ড.‌ শৌভিক মুখার্জি, বিশিষ্ট সাংবাদিক সোহিনী চট্টোপাধ্যায়। ছিলেন হেরিটেজ কমিশনের চেয়ারম্যান শুভাপ্রসন্ন, বিশিষ্ট তবলাবাদক বিক্রম ঘোষ, ক্যালকাটা হেরিটেজ কালেক্টিভ–এর মুকুল আগরওয়াল প্রমুখ। ছবি:‌ তপন মুখার্জি‌

জনপ্রিয়

Back To Top