আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মাঝেরহাট সেতু বিপর্যয়ের তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা জানালেন অতিরিক্ত ভারের কারণেই ভেঙে পড়েছে সেতুটি। প্রতিমিটারে ১০৪ কোজি করে অতিরিক্ত ভার ছিল। যার অন্যতম কারণ ছিল ট্রাম লাইন। ১৭ বছর আগে মাঝেরহাট সেতুর উপর দিয়ে ট্রাম চলাচল করত। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে সেই ট্রাম লাইন না তুলেই তার উপর পিচের প্রলেপ দেওয়া হয়। বিটুমিন আর পিচ কখনোই মজবুত ভাবে জোড়া লাগে না। তাতে বার বার ক্ষয় হয়। মাঝেরহাট সেতুর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। লোহার ট্রামলাইনের বাড়তি ভার তার উপর পিচের প্রলেপ দুয়ের জেরেই সেতুটি ভেঙে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। 
ট্রাম লাইন তুলে পিচ দিয়ে রাস্তা করলে এই বিপর্য়য় এড়ানো যেত বলে মনে করছেন তাঁরা। এদিকে নতুন করে সেতু তৈরি করা বা সেতু মেরামত করা দুটোই সময় সাপেক্ষ বিষয় হওয়ায় বিকল্প সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। রেলকে অনুরোধ করে সাময়িক ভাবে যান চলাচলের জন্য লেভেল ক্রসিং তৈরি করা হবে। সেই মর্মে রেলকে চিঠিও দেবে রাজ্য সরকার। 
শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিস কমিশনার রাজীব কুমার জানিয়েছেন, বেহালা এবং আলিপুর ও খিদিরপুর  এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিস। আপাতত সরকারি নির্দেশিকা মেনে ২০ চাকার গাড়ি শহরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সেই নির্দেশিকা মেনেই শনি এবং রবিবারের মধ্যে শহরের যেখানে যেখানে ২০ চাকার গাড়ি সরাতে বলেছেন তিনি। নতুন রুট তৈরি করা হয়েছে তবে সেই রুটে অভ্যস্ত হতে মানুষের সময় লাগে। সেকারণেই একটু সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন রাজীব কুমার। 
রাজ্যে উত্তরে ফাঁসিদেওয়ায় সেতু বিপর্যয়ের অন্যতম কারণও প্রকাশ্যে এসেছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন লোহার বিম ক্ষয়ে যাওয়াতেই সেতুটি ভেঙে পড়ে। পিলার এবং গার্ডারের সংযোগকারী লোহার বিমেও ক্ষয় হয়েছে। সেকারণেই সেতুর বহন ক্ষমতা কমে গিয়েছিল। 

জনপ্রিয়

Back To Top