আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌‘‌পুজোর আগেই ছাড়িয়ে দিতে হবে পটলার মাকে। মোটেও কাজ ভাল নয়। তার চেয়ে বরং মিনতিকে রাখব কাজে, কম টাকায় কাজ হাসিল।’‌ আবার অনেক সময় এটাও শোনা যায়, ‘‌বৌদি কাল থেকে আর কাজে আসবু নি। আমার পাওনা গণ্ডা মিটিয়ে দাও দেকিনি।’‌ কাজের মাসি–বৌদিদের ঝামেলা বহু আগের এবং বেশ পরিচিতও বটে। বাড়ির পরিচারিকাকে নিয়ে ঝামেলায় পড়েননি এমন বাড়ি এ শহরে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অবশ্য এর উল্টোচিত্রও দেখতে পাওয়া যায়। মানে পরিচারিকারাও অনেক সময়ই নির্যাতনের শিকার হন বা অসময়ে তাঁদের কাজ থেকে বের করে দেওয়া হয়। বাড়ির কর্ত্রী বা বৌদিদের দুঃখ না বুঝলেও পরিচারিকাদের পাশে দাঁড়াতে হাজির হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ গৃহ–পরিচারিকা কল্যাণ সমিতি। 
আজকাল ওয়েবের পক্ষ থেকে এই সমিতির সংগঠক শ্রীরূপা মান্নার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পরিচারিকাদের দুঃখ–তাঁদের সমস্যা দুর করার জন্যই এই সমিতিটি তৈরি হয়েছে। যদিও এটার কোনও রেজিস্ট্রেশন নেই। ঠিক কি কি কাজ করে এই পরিচারিকা সমিতি? ‌শ্রীরূপা দেবী জানান, পরিচারিকাদের নুন্যতম মজুরির আওতায় নিয়ে আসা এটা একটা বড় কাজ তাঁদের সমিতির। এ জন্য তাঁরা বেতন কমিশনের সঙ্গেও কথা বলেছেন। এছাড়াও পরিচারিকাদের জন্য নির্দিষ্ট ছুটি এবং তাঁদের অল্প বিস্তর শিক্ষিত করে তোলাও এই সমিতির লক্ষ্য। কলকাতা, হাওড়া, মেদিনীপুর, বীরভূম, হুগলি, উত্তবঙ্গ সহ সাতটি জেলার পরিচারিকাদের নিয়ে কাজ করছে এই সমিতিটি। 
পরিচারিকাদের কোনও শ্রমিক শ্রেণীর আওতায় ধরা হয় না। উপরন্তু তাঁেদর কোনও সমস্যা হলে বাড়ির মালিক উল্টে তাঁদেরকেই দোষারোপ করেন। তাই নারী শ্রমিকদের সংগঠনকে আরও মজবুত করতেই এই গৃহ–পরিচারিকা সমিতির আবির্ভাব। সম্প্রতি এই সংগঠনের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টার খুব ভাইরাল হয়েছে। পোস্টারটিতে লেখা আছে, ‘‌কাজের মেয়ে চাইলে বোনাস লুটছো তাকে অনর্গল / ‌পুজোর আগে তোমায়ও লোটে ঝাঁ চকচকে শপিং মল।

১)‌ বিনা নোটিসে কোনও অজুহাতেই কাজ ছাড়ানো যাবে না। ২)‌ পুজোর আগে কাজ ছাড়াতে হলে পুজোর বোনাস সহ প্রাপ্য মাইনে দিয়ে দিতে হবে।’‌ পশ্চিমবঙ্গ পরিচারিকা সমিতির পক্ষ থেকে এই পোস্টার শহরের দেওয়ালে দেওয়ালে লাগানো হয়েছে। যা ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকেও। এ বিষয়ে শ্রীরূপা মান্না জানিয়েছেন, পুজোর আগে বোনাস দেওয়ার ভয়ে অনেক বাড়ির মালিকই তাঁদের পরিচারিকাকে ছাড়িয়ে দেন। বিনা নোটিসে পরিচারিকাদের ছাড়িয়ে দিলে তাঁদেরও বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই কাজ থেকে ছাড়ানোর আগে নোটিস দিতে হবে বাড়ির মালিককে। এমনকী পুজোর আগের মাসে কাজ থেকে ছাড়ালে বেতন সহ বোনাসও দিয়ে তারপর কাজ থেকে বিদায় দিতে পারবে পরিচারিকাদের। 
বাড়ির মালিক যেমন তাঁর পরিচারিকার বিরুদ্ধে ভুরিভুরি অভিযোগ জানান তেমনি পরিচারিকাদেরও অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হল, ঠিক সময়ে বেতন না পাওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে ঘৃণ্য আচরণ করা। শ্রীরূপা মান্না জানান, বাড়ির মালিকের যেমন পরিচারিকার ব্যক্তিগত তথ্য জানার অধিকার রয়েছে তেমনই পরিচারিকারও একই অধিকার রয়েছে। তবে এ সবের মধ্যেই বাড়ির মহিলারা কিন্তু অন্য কথাই জানালেন। গৃহবধূ অর্পিতা ঘোষ বলেন, ‘‌কাজের মাসিদের যত টাকাই দাও না কেন কাজের বেলায় অজুহাত শুরু হয়ে যায়। কিছু কিছুজন তো পুজোর বোনাস আবার নতুন শাড়ি–ব্লাউজের আবদারও করেন। পরিচারিকা সমিতি কি সেটা একটু ভেবে দেখেছেন যে বাড়ির মালিকদের কুবেরের ধন রাখা নেই।’‌ একই সুর শোনা গেল তথ্য–প্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত প্রিয়াঙ্কা সুরের গলায়। তিনি বলেন, ‘‌পরিচারিকাদের বারো মাসে তেরো পার্বন। প্রত্যেক সপ্তাহে কোনও না কোনও বাহানায় ছুটি। অথচ কিছু বলা যাবে না তাঁদের। উল্টে আমাদেরকেই গালমন্দ করে কাজ ছেড়ে দেবে এবং ওঁদের সংগঠনকে বলে রাখবে যে আমার বাড়িতে যেন কেউ কাজ না করে। এটা কোথাকার নিয়ম?‌ এ বিষয়ে পরিচারিকা সমিতি কি কোনও সাহায্য করতে পারে?‌’‌ ‌‌

 

 

যাদবপুর ৮বিতে পোস্টার লাগাচ্ছেন সমিতির এক সদস্য।

জনপ্রিয়

Back To Top