দীপঙ্কর নন্দী- কনটেনমেন্ট জোনে লকডাউন এখনই তোলার পক্ষে নয় রাজ্য।  
২২ মার্চ জনতা–‌কার্ফু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ২৩ থেকে ২৭ মার্চ লকডাউন ঘোষণা করেন। তারপর থেকে কেন্দ্র লকডাউন ঘোষণা করে। যা এখনও চলছে। ৩০ মে চতুর্থ দফার লকডাউন শেষ হচ্ছে। নবান্নে জোর গুজব, পঞ্চম দফায় লকডাউন আরও ২ সপ্তাহ বাড়াতে পারে কেন্দ্র। 
বৃহস্পতিবার দিল্লির ক্যাবিনেট সচিবের সঙ্গে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিবের ভিডিও কনফারেন্স হয়। মুখ্যসচিবরা নিজেদের রাজ্যের পরিস্থিতি বিস্তারিত জানিয়েছেন। এ রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা ছিলেন। ছিলেন ডিজি বীরেন্দ্রও। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যসচিব গোটা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন। লকডাউন নিয়ে কিছু আপত্তির কথাও বলেছেন। কনটেনমেন্ট জোনে লকডাউন এখনই তোলার পক্ষে নয় রাজ্য। তবে জীবন–‌জীবিকার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও ছাড় দিতে চায়। রাজ্য জানিয়েছে, আয় কমেছে, তা বাড়াতে হবে। কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনে অন্য রাজ্যের তুলনায় বাংলার মানুষ লকডাউন ভালভাবে পালন করছেন। করোনা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। কিন্তু ভিন রাজ্য থেকে রেল জোর করে পরিযায়ী শ্রমিক পাঠানোয় করোনা বাড়ছে।
রাজ্য সরকার প্রথম থেকেই রেড, গ্রিন, অরেঞ্জ জোন করেছে। ধাপে ধাপে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে দোকানপাট খুলছে। সম্প্রতি সরকারি বাস, হলুদ ট্যাক্সি ও অটোও চলছে। ‘‌সন্ধানে’‌ অ্যাপের মাধ্যমে কোথায় আক্রান্তরা রয়েছেন, খুঁজে বের করা হয়। আশাকর্মীরা এই কাজে নিযুক্ত। করোনায় মৃত্যু প্রথমদিকে অনেক কম ছিল। পুলিশ–‌প্রশাসন সক্রিয়। সকাল থেকে বিভিন্ন থানা রাস্তায় মাইকে প্রচার করে।
এদিন মুখ্যসচিব ক্যাবিনেট সচিবকে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার এখনও লোকাল ট্রেন ও মেট্রো চালানোর বিপক্ষে। ট্রেন চললে জেলা থেকে কলকাতায় মানুষ আসবেন, ফিরে যাবেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যাবে না।
আমফান নিয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ লক্ষ কোটি টাকা। কেন্দ্রের আরও সাহায্যের প্রয়োজন। কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর যদি প্রতিনিধিদল পাঠায়, রাজ্য সহযোগিতা করবে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ত্রাণশিবিরে বহু মানুষ রয়েছেন। তাঁদের ঘর ভেঙেছে। বাঁধ ভেঙে গেছে। ধান নষ্ট হয়েছে, বড় বড় গাছ ভেঙেছে। ৩০ জুন পর্যন্ত স্কুল বন্ধ, কারণ অনেক স্কুলে ত্রাণশিবির করা হয়েছে। কিছু স্কুলে করোনা–‌আক্রান্ত পরিযায়ী শ্রমিকরাও রয়েছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top