সঙ্ঘমিত্রা মুখোপাধ্যায়- লকডাউনের জেরে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হলেও থেমে নেই রক্তদান ও সংগ্রহের চেষ্টা। বড় বড় রক্তদান কর্মসূচি সব বাতিল হলেও সাত দশজনের মিলিত উদ্যোগে, একেবারে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় রক্তদান কিন্তু চালু আছে। বিধাননগরের আই ও ব্লকে গত শনিবার এমনই এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে রক্ত দিয়েছেন মোট ১৭ জন। তিন মিটার দূরত্বে দুটি বেড পাতা ছিল আই ও ব্লকের কমিউনিটি সেন্টারে। সেখানে দুজন দুজন করে এসে রক্ত দিয়ে গেছেন।  ওই ব্লকের তরফে অভিজিৎ ঘোষ জানালেন, ‘‌ডোনার মোটিভেশনের সময় নয় এখন, নিজে থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের থেকেই রক্ত নেওয়া হয়েছে।’‌
গরম পড়লেই প্রত্যেক বছর রক্ত সঙ্কট প্রকট হয়। এছাড়া থ্যালাসেমিয়া ও দুর্ঘটনা জনিত কারণে সারাবছরই নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। স্টুডেন্ট হেলথ হোম ও কফি হাউস সোশ্যাল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত  দীপঙ্কর মিত্র জানালেন, ‘‌লকডাউনের কারণে বেশ কিছু অস্ত্রোপচার স্থগিত থাকলেও জরুরি অস্ত্রোপচার তো চলছেই। সুতরাং রক্তের জোগান থাকা তো সবসময়ই জরুরি। প্রত্যেকেই যদি ছোট ছোট করে উদ্যোগ নিয়ে রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা করি, তাহলেই রক্তের জোগানে ঘাটতি থাকে না।’‌ গতকাল শিয়ালদায় সন্তোষ মিত্র স্কোয়‌্যারে মধ্য কলকাতা সমন্বয় সমিতির তরফে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে প্রায় তিরিশ জন রক্ত দিয়ে গেছেন। একসঙ্গে নয়। চারজন করে এক একবারে এসেছেন। মাস্ক, গ্লাভস পরে, সবরকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখানে রক্তদান কর্মসূচি পালন করা হয়। সমন্বয় সমিতির সদস্য সজল ঘোষ জানালেন, ‘‌রাজ্য সরকার একটি সার্কুলার দিয়েছে যে, তিরিশজন ও তার কম সংখ্যক লোক নিয়ে রক্তদান শিবির করা যাবে। তবে একসঙ্গে কখনোই একজায়গায় সাতজনের বেশি জমায়েত করা যাবে না।’‌ সেই বিধি মেনেই এদিন বিকেলে রক্তদান করা হয়। প্রায় তিরিশজন রক্ত দিয়েছেন। সমাজসেবী দীপঙ্কর মিত্রের কথায়, রক্তদান শিবির বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উৎসবে পরিণত হয় নানারকম ভূরিভোজের আয়োজনে। এব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। একজায়গায় অনেক জমায়েত না করে বিভিন্ন এলাকা বা আবাসনের বাসিন্দারা যদি সাত–দশজন করে রক্তদানে আগ্রহী থাকেন, তবে সরকারের তরফ থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করে দীপঙ্কর মিত্ররা হেলথ হোমের তরফ থেকে নিজেরাই রক্ত সংগ্রহে চলে যাবেন। একই বক্তব্য ভারুকা ব্লাড ব্যাঙ্কের প্রশাসক ভাস্কর মুখার্জির। ভাস্করবাবু জানালেন, এই পরিস্থিতিতে ছোটখাট রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করাই যায়, এবং হচ্ছেও তাই। আগামী শনিবার বিধাননগরের একটি আবাসন ওদের সংস্থাকে ডেকেছেন রক্ত সংগ্রহের জন্য। ভারুকা ফাউন্ডেশন একটি পাবলিক ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। তাই এই জরুরি পরিস্থিতিতে যে এলাকা, বা যে আবাসনই রক্ত সংগ্রহের জন্য ডাকছেন, হাজির হচ্ছেন সেখানে। তবে পাঁচ জনের কম লোক হলে নিজেদের গাড়ি পাঠিয়ে রক্তদাতাদের নিয়ে এসে সংগ্রহ করে নিচ্ছেন রক্ত। ডাঃ তমাল লাহা মনে করছেন, ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই অবস্থা চলতে থাকলে অনেক অপারেশনই আর ফেলে রাখা যাবে না। রক্তের জোগান যথাযথ না থাকলে অস্ত্রোপচারে সঙ্কট দেখা দেবে। তাই ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত উদ্যোগে এই শিবিরগুলো কিছুটা রক্তের প্রয়োজন মেটাবে।
বর্ধমান হোপ ফাউন্ডেশন মঙ্গলবার বর্ধমান শহরে ৩৫ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করে। তারা এএবিবি এবং রাজ্য সরকারের যাবতীয় নির্দেশিকা বিধি মেনে এই শিবিরের আয়োজন করে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ব্লাড ডোনারস অর্গানাইজেশনস।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top