কাকলি মুখোপাধ্যায়- খুলে গেল কলকাতার ৪৮ বাজার। পুরসভার বাজার–‌সহ বেসরকারি বাজারও সোমবার থেকে খুলেছে। হকাররাও বসতে শুরু করলেন। তবে সরকারি সুরক্ষা বিধি মানা বাধ্যতামূলক। বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই পুর প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম সতর্কবার্তা জারি করেছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে ক্রেতা–বিক্রেতা দু’‌পক্ষকেই। নিয়মিত বাজার স্যানিটাইজড করতে হবে। পুরসভা থেকে ব্যানার, হোর্ডিং দিয়ে সচেতন করা হবে। এরপরেও বিধি ভাঙলে সেই বাজার বন্ধ করে দেওয়া হবে। বাজারগুলিতে বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে কিনা দেখার দায়িত্ব নিতে হবে বাজার কমিটিকে। বাজারেও লালারস পরীক্ষার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া পুরসভাও নজর রাখবে। পুর প্রশাসকের অভিযোগ বাজারগুলিই করোনার আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে। তাই আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে নিউ মার্কেট, গড়িয়াহাট–‌সহ সব জায়গায় জামাকাপড়, খাবার–‌সহ হকাররা দোকান খুলতে শুরু করলেন। হকার সংগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক শক্তিমান ঘোষ জানান, রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনেই হকাররাও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই দোকান খুলছেন। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে অড–ইভন নম্বর অনুযায়ী দোকান খুলতে বলেছেন, সেভাবেই খোলা হচ্ছে। 
এদিন সকালে পরিষ্কার–‌পরিচ্ছন্নের পর খুলে দেওয়া হয় নিউ মার্কেটে নতুন–পুরনো দুটি বাজারই। আপাতত বাজারের ৩টি গেট খোলা হচ্ছে।  এস এস হগ মার্কেট শপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে কিছু বিধি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ আলম জানান, ধীরে ধীরে লকডাউন শিথিল হচ্ছে।  পুরসভা মার্কেট খোলার সম্মতি দিয়েছিল।  আজ থেকে খোলা হল নিউ মার্কেটের নতুন ও পুরনো দুটি বাজার। তবে কিছু বিধিনিষেধ তৈরি করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাজার খোলা থাকবে। বিরিয়ানি হাউস, লাইট হাউস আর কার্গো রেস্তোরাঁর দিকের গেটগুলি খোলা হচ্ছে। প্রতিটি গেটেই একজন করে নিরাপত্তারক্ষী থাকবেন। স্যানিটাইজার দেওয়ার জন্য। পুরসভা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজারে ঢোকার ক্ষেত্রে মাস্ক, দস্তানা বাধ্যতামূলক। দোকানের লোকসংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এখানে বেশিরভাগ দোকানই ছোট। সেক্ষেত্রে দোকানের ভিতরে লোকসংখ্যাও নির্ধিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ১০০ থেকে ১৫০ বর্গফুটের দোকানে মালিক ও কর্মী মিলিয়ে ৩ জন থাকতে পারবেন। আর একজনের বেশি গ্রাহক দোকানে ঢুকতে পারবেন না। বাইরে অপেক্ষা করতে হবে। আর এই নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা দেখার দায়িত্ব দোকান মালিকেরই। নিউ মার্কেটে নতুন কমপ্লেক্সে সবমিলিয়ে প্রায় ১২৭৫ থেকে ১৩০০ দোকান আছে। অহেতুক বেশি ভিড় যাতে না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। মার্কেট শৌচালয়ে ২ জনের বেশি যাওয়া যাবে না। দোকান খোলার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে এই বিধি মানতে হবে। নিয়ম ভাঙলে সংগঠনের পক্ষ থেকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিউ মার্কেটের পুরনো বাজারে পুরসভা থেকে ২টি স্যানিটাইজাইড গেট বসানো হয়েছে। নতুন বাজারেও এই গেট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ৬টি গেটের মধ্যে একটা–দুটো স্যানিটাইজড গেট বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে পুরসভাকে। সংগঠনের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 
বাজারদোকান খোলার অনুমতি মিলতেই আশায় বুক বাঁধছেন বড় ছোট ব্যবসায়ী, হকাররা। খুলেছে রাস্তার ধারে চায়ের ছোট গুমটিও। তাঁদের বক্তব্য, লকডাউনে বিশাল ক্ষতি হয়েছে। দু’‌মাস বাদে দোকান খোলার অনুমতি মিলেছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক না হলে বিক্রিবাটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রাস্তার খাবার বিক্রেতারা অবশ্য তাকিয়ে আছে আশপাশের অফিস–কাছারি খোলার দিকে। পরিবেশ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দোকান খুললেও বেচাকেনা নিয়ে চিন্তায় ব্যবসায়ীরা।‌‌

 

খুলেছে হাতিবাগান মার্কেট। সোমবার। ছবি: তপন মুখার্জি

জনপ্রিয়

Back To Top