সাগরিকা দত্তচৌধুরি- মারণ করোনাভাইরাসের থাবা থেকে বাঁচতে একদিকে যেমন গোটা রাজ্য জুড়ে লকডাউন চলছে, ঠিক অন্য ছবি দেখা গেল এসএসকেএম হাসপাতালে। মঙ্গলবার পাঁচ কেজি টিউমার বের করে এক বৃদ্ধকে নতুন জীবন দিলেন এসএসকেএমের জেনারেল সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকেরা। আইটিইউ–‌তে রোগী আছেন। রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। মঙ্গলবার ১৫টি অস্ত্রোপচার হয়েছে। বুধবারও অনেকগুলো অস্ত্রোপচার হয়েছে। 
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার থানার অন্তর্গত কুমারারা গ্রামের বাসিন্দা দিলীপকুমার সাহু গত তিন–চার মাস ধরে ভুগছিলেন। বারে বারে জ্বর হত। কথা বলতে, হাঁটতে চলতে কষ্ট হত। প্রথমে নিউ আলিপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৭–২১ ফেব্রুয়ারি সেখানে ছিলেন। জানতে পারেন হার্টের সমস্যা রয়েছে। পেসমেকার বসাতে হবে। পেশায় গাড়িচালক এই বৃদ্ধ খরচের বহর শুনে সেখান থেকে চলে যান এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি হন। পেসমেকার বসানোর আগে শারীরিক পরীক্ষার সময় ধরা পড়ে পেট জুড়ে বিশালাকার টিউমার। পেসমেকার বসানোর পর সার্জারি বিভাগে স্থানান্তর করা হয় ২১ মার্চ, শনিবার। ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দু’‌ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার চলে অধ্যাপক ডাঃ বিতানকুমার চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। তিনি বলেন, ‘‌লকডাউন থাকলেও আমাদের ঘরে থাকলে চলবে না। মানুষের প্রয়োজন আমাদের। চিকিৎসা পরিষেবা আর পাঁচটি কাজের মতো নয়। যতই বাধা বিপত্তি আসুক আমরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বিধি মেনে রোগীর সেবা করছি।’‌ 
রোগীর ছেলে অতনুকুমার সাহু বলেন, ‘‌বাবার শরীর আপাতত ঠিক আছে। এরকম একটা কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁরা যে অস্ত্রোপচার করে বাবাকে বাঁচিয়েছেন তার জন্য ডাক্তারবাবুদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।’‌ 
চিকিৎসক পবন মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘‌টিউমারটি ক্যান্সারপ্রবণ মনে হচ্ছে। গোটা পেট জুড়ে ছিল টিউমারটি। রোগী বুঝতে পারেননি, ভাবছিলেন ভুঁড়ি হয়েছে। পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্রের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করছিল টিউমারটি। রোগীর উচ্চরক্তচাপ, শুগার, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের সঙ্গে ইসকিমিক হার্ট ডিজিজও রয়েছে। ৬৭ বছর বয়সি এই রোগীর ক্ষেত্রে এত বড় একটা অপারেশন করাটা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। পেসমেকার বসানোর জন্য বিশেষ একটি পদ্ধতি (‌ডায়াথার্মি)‌ করে তারপর কোনও অঙ্গহানি না করে পুরো টিউমারটি কেটে বের করি।  দু–তিনদিন পর ফের আমাদের বিভাগ থেকে ছুটি দিয়ে কার্ডিওলজিতে রেফার করে দেব। লকডাউনের মধ্যেও আমরা রোগীকে স্বাভাবিকভাবে পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছি।’‌ অস্ত্রোপচারে সহায়তা করেন, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ সুনন্দ দে, চিকিৎসক পঙ্কজ কুমার, দেবতনু হাজরা, বিদ্যারানি ঝা, জিতেশ মিদ্যা, অর্ণব পাল।  

জনপ্রিয়

Back To Top