আজকালের প্রতিবেদন: ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যা করা হচ্ছে, এই মর্মে আপৎকালীন ফোন পাওয়ার মাত্র ২৩ মিনিটের মধ্যে আত্মহত্যাকারী এক যুবককে বাঁচাল কলকাতা পুলিশ। ঘটনাস্থল দক্ষিণ কলকাতার গড়ফা। শনিবার গভীর রাতে লালবাজারে ফোন এসেছিল ওই যুবকের বন্ধুর তরফে। ঘটনা শুনেই তৎক্ষণাৎ তা গড়ফা থানায় জানানো হয়। কালক্ষেপ না করে গড়ফা থানা পদক্ষেপ নেওয়ায় ওই যুবক প্রাণে বেঁচে যান। 
প্রসঙ্গত, আগেও ফেসবুক থেকে সতর্কবার্তা পেয়ে গুয়াহাটির এক যুবককে বাঁচিয়েছিল লালবাজার। কলকাতা পুলিশের তরফে অসম পুলিশকে ফেসবুকের সতর্কবার্তা পাঠিয়ে ওই যুবকের ভৌগোলিক অবস্থান দেখতে বলা হয়। অসম পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় ওই যুবক বেঁচে যান।
শনিবার রাতে নীলাদ্রি ব্যানার্জি নামে এক যুবক রাত ১টা ৩২ মিনিটে ১০০ নম্বরে ফোন করে বলেন, তাঁর এক বন্ধু ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। নীলাদ্রি ফেসবুক লাইভে দেখতে পাচ্ছেন, গড়ফার বাসিন্দা তাঁর ওই বন্ধু গলায় দড়ি দিতে যাচ্ছেন। খবর পেয়েই লালবাজার গড়ফা থানাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলে। যে যুবক আত্মহত্যার চেষ্টা করছিলেন, তাঁর বাড়ি গড়ফার সাঁপুইপাড়া এলাকায়। নীলাদ্রির সূত্রেই কলকাতা পুলিশের সাইবার থানা দ্রুত ওই যুবকের অবস্থান নির্দিষ্ট করে। দেখা যায়, স্থানীয় কালীতলা রোডে ওই যুবকের বাড়ি। সঙ্গে সঙ্গে গড়ফা থানার কর্তব্যরত সাব ইনস্পেক্টর শৌভিক দাস দু’‌জন কনস্টেবলকে নিয়ে ওই যুবকের বাড়ি পৌঁছে যান। 
রাত ১টা ৫৫ মিনিট নাগাদ আত্মহত্যার মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা হয় ওই যুবককে। 
জানা গেছে, গড়ফার ওই যুবকের বয়স ২৯ বছর। তাঁর মা ফিজিওথেরাপিস্ট। বাবা তাঁদের সঙ্গে থাকেন না। তিনি আলাদা থাকেন। মা–ছেলে থাকেন যুবকের মামার বাড়িতে। ওই যুবকের শখ স্টুডিও এবং গানের ব্যান্ড তৈরি করা। বিভিন্ন সময়ে সে বিষয়ে উদ্যোগও নিলেও সফল হননি। সম্ভবত তার পর থেকেই এক ধরনের অবসাদ তাঁকে ঘিরে ধরেছিল। প্রায়শই নানা কারণে মায়ের কাছে টাকা চাইতেন। মা চাহিদামতো টাকা না দিলে ঝগড়াও করতেন। 
তবে পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট মায়ের পক্ষে ওই যুবককে ঘন ঘন টাকা দেওয়া সম্ভব ছিল না। টাকা না পেলেই যুবক হইহল্লা এবং ঝগড়া শুরু করতেন। স্থানীয় সূত্রে খোঁজখবর নিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রায় প্রতি রাতেই টাকা চাওয়া নিয়ে ছেলের সঙ্গে মায়ের গোলমাল বাধত। শনিবার রাতেও গোলমাল হচ্ছিল। এরপর ওই যুবক হঠাৎ বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান। খোঁজখবর শুরু হয়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। ততক্ষণে তিনি নিজের মাথায় ইট দিয়ে কয়েকবার আঘাতও করেছেন। বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে ঢুকে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিতে নিতে মোবাইলে ফেসবুক লাইভ শুরু করেন তিনি। তখনই নীলাদ্রির চোখে পড়ে ওই ঘটনা। লালবাজার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াতেই অবশ্য বেঁচে যান নীলাদ্রির বন্ধু। অলঙ্করণ: অর্ঘ্য চৌধুরী

জনপ্রিয়

Back To Top