শিখর কর্মকার: ভূমিষ্ঠ হওয়া প্রকৃত জন্ম নয়। মানুষের জীবনকালে প্রতিনিয়ত উপলব্ধির পরিবর্তন ঘটছে। মানবিক বিকাশ ঘটছে। চেতনার বিকাশ একজন মানুষের ভেতর নতুন মানুষের জন্ম দিচ্ছে। মানুষ তার জীবদ্দশায় এভাবে প্রতিনিয়ত নতুন করে জন্ম নিচ্ছে। আবার মৃত্যু ঘটছে পুরনো ধ্যান ধারণা, চেতনার। মাটির কলসির পেটে ঢোকানো হাওয়া, জলে শব্দের তরঙ্গ তুলে মানবজন্মের ওই প্রকৃত বোধ নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘে তুলে ধরেছেন শিল্পী ভবতোষ সুতার। কলসি শুধু জল ধারণের পাত্র নয়। বাতাসও ধরে রাখে মাতৃজঠররূপী এই কলসি। তাই মানবজীবনে প্রতি মুহূর্তের চেতনা, মানবিক বিকাশের এই জন্মকে দেখাতে কলসিকে বেছে নিয়েছেন শিল্পী। দশ হাজার মাটির কলসিকে খড়, বাঁশের বাঁধনে বেঁধে তৈরি করেছেন ১০০ ফুট ব্যাসের বিশাল গোলাকৃতি মণ্ডপ। সেখানে হাজার কলসিতে জল, হাওয়া ঢুকিয়ে কম্পিউটার চালিত যান্ত্রিক ব্যবস্থায় ১০০০ স্ট্রিংয়ে একযোগে কলসির ঢাকনা খোলা–‌বন্ধের শব্দ শুনিয়ে মানবজীবনে প্রতিনিয়ত নতুন জন্মের উপলব্ধি বোঝানো হবে। একই উপলব্ধি পাওয়া যাবে প্রবেশ পথে এক ভিডিও প্রোজেকশনে। দেখা যাবে ওপর থেকে কলসির মাটিতে পড়ে ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য। মণ্ডপের ঠিক মাঝে গোলাকৃতি কুয়ায় কলসি তৈরির উপকরণ কাদামাটি ঢেউ খেলে যাবে। সেখানেই অধিষ্ঠান দেবী দুর্গার। ফাইবার আর কাগজের মণ্ডে এই মূর্তিটি গড়েছেন ভবতোষ। মণ্ডপের এক স্থানে প্রোজেকশনে দেখা যাবে কাদামাটিতে কলসি গড়া। শিল্পী ভাবনা ফুটিয়ে তুলতে থিম সং রচনা করেছেন কবির সুমন। তাঁর কণ্ঠে সেই থিম সং শোনা যাবে মণ্ডপ চত্বরে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের চেয়ারম্যান। কলকাতার বড় পুজোর অন্যতম এই পুজোর সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত জানান, দর্শকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এ বছর পুজো দেখতে আসা মানুষের জন্য ৫০ লক্ষ টাকার বিমা করা হয়েছে। এ ছাড়া মণ্ডপের জন্যও ৬০ লক্ষ টাকার বিমা করা হয়েছে। মণ্ডপে ব্যবহৃত সামগ্রী অগ্নি নির্বাপক করা হয়েছে। বসানো হয়েছে স্মোক ডিটেক্টর, সিসিটিভি। পুজোর কথা মাথায় রেখে ক্লাবের ভেতরে তৈরি করা হয়েছে বিশাল জলাধার। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এ বছর স্থানীয় ২০টি ছোট পুজোকে আর্থিক সাহায্য করা হবে। এর মধ্যে ১০টি মহিলা পরিচালিত পুজো। পুজোর পাশাপাশি ডেঙ্গু সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে ‘‌ডেঙ্গু এবার মহিষাসুর’‌— এই প্রচার চালানো হবে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top