কাকলি মুখোপাধ্যায়

 


বাঙালির দুর্গাপুজো জাতীয় উৎসবের চেহারা নিয়েছে। সোমবার দুপুর থেকে বিকেল কলকাতার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে এমনটাই বোধ হচ্ছিল। সল্টলেক থেকে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব কলকাতা, নবমীর বেলাশেষের ভিড় ছিল মূলত অবাঙালি ও শহরতলির মানুষের। বিরাটি, মধ্যমগ্রাম,আলমবাজার, বরানগর, আন্দুল থেকে উৎসাহী মানুষ এসেছেন। দলে দলে ছড়িয়ে পড়েছেন। আলমবাজারের শান্তা সাউ এসেছেন পুরো পরিবারের সঙ্গে, ভিআইপি রোডের ধারে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের ঠাকুর দেখতে। কোলের শিশুকে সামলাতে সামলাতে শান্তা জানালেন, ‘‌ফি-বছর নিয়ম করে দুর্গাপুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরোই। এবার বৃষ্টির জন্য খানিকটা ভয়ে-ভয়ে বেরিয়েছি। সঙ্গে বাচ্চা রয়েছে। আর ভিড়? সে তো থাকবেই! ভিড়ের জন্য আনন্দ তো মাটি করা যায় না!’‌ দমদম পার্ক তরুণ দলের মণ্ডপে ঢোকার লাইনে দেখা বনগাঁর শম্পার সঙ্গে। কৈখালিতে আত্মীয়ার বাড়িতে এসেছেন পুজো দেখতে। দমদম পার্কের বাসিন্দা সঞ্জীব ব্যানর্জির অবশ্য বক্তব্য, নবমীর সকাল–বিকেলে শহরতলির ভিড়টাই বেশি হয়। কলকাতার মানুষের ভিড় আবার বাড়বে রাতে। তবে এলাকার মানুষজনের এই সময়টা নিখাদ আড্ডার বেলা। সল্টলেকের পুজোমণ্ডপগুলির ছবিও কতকটা একই রকম। দুপুরের খাওয়াদাওয়ার পর এফই ব্লকের বাসিন্দারা জমিয়ে আড্ডায় মশগুল। প্রবীণেরাও তুমুল গল্প জুড়ে দিয়েছেন। জিডি ব্লকে তখনও শেষ হয়নি খাওয়াদাওয়া। তার মধ্যেই একদল চেয়ার পেতে বসে পড়েছেন আড্ডা দিতে। বিদেশ-বিভুঁই থেকে ঘরে ফিরেছেন কেউ। কেউ-বা এসেছেন দূরের প্রদেশ থেকে। সবাই মত্ত আড্ডার মেজাজে।

ঘুরতে ঘুরতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে তখন উল্টোডাঙার মোড়ে। উৎসবের লগনে আলো জ্বলে উঠছে পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায়। মায়াবী তিলোত্তমার চেহারা নিচ্ছে হররোজের শহর। বিধাননগর রোড স্টেশন থেকে মহানগরের পথে মিশে যাচ্ছে বিপুল জনস্রোত। সেই জনজোয়ারই এবার রাতভর শাসন করবে উৎসবমুখর কলকাতা।

জনপ্রিয়

Back To Top