আজকালের প্রতিবেদন: করোনা–আবহে আতশবাজির ধোঁয়া আরও প্রাণঘাতী হবে। এই আশঙ্কায় এবার কালীপুজো ও দীপাবলির মরশুমে বাজি না ফাটানোর আবেদন জানিয়েছে চিকিৎসকদের যৌথ মঞ্চ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে করজোড়ে চিকিৎসদের আবেদন, বস্তি, বাড়ি, আবাসন, উদ্যান–সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আতশবাজি ফাটানো থেকে বিরত থাকতে যেন কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় গ্রামগঞ্জের প্রত্যেক এলাকার মানুষকে বুঝিয়ে চেষ্টা করতে হবে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে। করোনা আক্রান্তদের পাশাপাশি যাঁরা করোনা থেকে সেরে উঠেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও দূষিত ধোঁয়া বিপজ্জনক। অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরসের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মানস গুমটা বলেছেন, ‘‌কোভিড থেকে মুক্ত হওয়ার পরে অনেকেরই শ্বাসনালি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মূলত ফুসফুসের ক্ষতি হচ্ছে। রাসায়নিক মিশ্রিত দূষিত ধোঁয়া করোনা–আবহে কোভিড, নন–কোভিড উভয়ের ক্ষেত্রেই আরও গুরুতরভাবে দেখা দেবে। তাই সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন, এ বছর বাজি ফাটানো বন্ধ হোক।’ ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের আহ্বায়ক ডাঃ পূণ্যব্রত গুণ বলেছেন, ‘‌রাজ্য সরকার, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কাছে আমরা চিঠি পাঠিয়েছি। এছাড়াও সাধারণ মানুষকে বলব এ বছর পরিস্থিতির কথা ভেবে সচেতন হতে। নইলে আরও ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে আমাদের পড়তে হবে।’‌ প্রোটেক্ট দ্য ওয়ারিয়র্স–এর তরফে ডাঃ অর্নিবাণ দলুই জানিয়েছেন, কালীপুজো উপলক্ষে বিভিন্ন ক্লাব ও বহুতল আবাসনগুলিতেও চিঠি দিয়ে আবেদন করব বাজি না ফাটানোর জন্য। আতশবাজির ধোঁয়ার মধ্যে থাকা সিসা, কোবাল্ট, ক্যাডমিয়াম, নাইট্রোজেন ডাই–অক্সাইড প্রভৃতি রাসায়নিক মিশ্রিত কণা শরীরে ঢুকলে সুস্থ মানুষের শ্বাসনালিরও চরম ক্ষতি করে।

জনপ্রিয়

Back To Top