‌সব্যসাচী সরকার, অভিজিৎ বসাক: ২০১১ সালে উচ্চমাধ্যমিক ষষ্ঠ হয়েছিলেন। এবার ইউপিএসসি–র সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ১৩ র‌্যাঙ্ক করেছেন কলকাতার রৌনক আগরওয়াল। এর আগে দু’‌বার প্রিলিমিনারির বাধা টপকাতে পারেননি তিনি। এবার একেবারে ১৩ নম্বরে। অন্য দিকে, প্রথম বারেই সফল বাংলার নেহা বন্দ্যোপাধ্যায়। চাকরি করতে করতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসেছেন এই বঙ্গতনয়া। তিনি ২০তম র‌্যাঙ্ক করেছেন। এখন মুসৌরিতে ফাউন্ডেশন কোর্সে যোগ দিতে যাবেন। খড়্গপুর আইআইটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে নয়ডায় একটি নামী সংস্থায় চাকরিতে যোগ দেন। এক বছর আট মাস চাকরি করেছেন। তার মধ্যেই দেশের অন্যতম সেরা পরীক্ষায় বসেছেন।
যাদবপুর সেন্ট্রাল পার্কের বাসিন্দা নেহা। দশম শ্রেণি পর্যন্ত কারমেল স্কুলে (‌মাধ্যমিকে কৃতীদের তালিকাতেও নাম ছিল তঁার)‌ পড়েছেন। একাদশ–‌দ্বাদশ সাউথ পয়েন্ট স্কুলে। তার পর খড়্গপুর আইআইটি–‌তে। ফাইনাল ইয়ার চলাকালীনই তঁার মনে হয়েছিল, তিনি সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষায় বসবেন। ইতিহাস, ভূগোল প্রিয় বিষয়। সিভিল সার্ভিসের পড়াশোনায় ঐচ্ছিক বিষয় অবশ্য তঁার ইঞ্জিনিয়ারিংই ছিল। কথায় কথায় জানা গেল, নেহা বিভিন্ন বিষয় পড়তে ভালবাসেন। কৌতূহল রয়েছে বিভিন্ন বিষয় জানার। বস্তুত, সিভিল সার্ভিসের অনেকগুলি বিষয়ে যেহেতু পরীক্ষা দিতে হয়, সেখানে মানববিদ্যার বিষয়ও থাকে। তাই পড়তে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষাতেই লক্ষ্যভেদ।
নেহা মনের কথা লিখে রাখেন ডায়েরিতে। নানা বিষয়, তঁার পারিপার্শ্বিক জীবন ডায়েরির পাতায় উঠে আসে। আরও গুণ রয়েছে নেহার। তিনি ভোকালিস্ট। খড়্গপুর আইআইটি–‌তে থাকার সময় কলেজের মিউজিক ব্যান্ডে গান গাইতেন। আইআইটি–‌র ইস্টার্ন টেকনোলজি মিউজিক সোসাইটিতে। তিনি জানালেন, বিদেশ যাওয়ার ইচ্ছে নেই। দেশেই থেকে ভাল কিছু কাজ করতে চান। দেশের হয়ে কাজ করতে চাওয়া তঁার দীর্ঘ দিনের লক্ষ্য। এবার সেই পথেই এগোলেন। বাবা ছিলেন ইনকাম–‌ট্যাক্স কনসালট্যান্ট। তঁার অনুপ্রেরণাতেই এত বড় সাফল্য। অবশ্য তঁার মায়েরও অনেক অবদান।
আগামী দিনে যঁারা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসবেন, তঁাদের উদ্দেশে কী বলবেন?‌ এই প্রশ্নের উত্তরে নেহা জানালেন, ‘‌ইচ্ছাশক্তিই আসল কথা, ভেতর থেকে কোনও কিছু চাইলে তবেই সাফল্য আসে। আমি পেরেছি, অনেকেই পারবে।’‌
ইচ্ছাশক্তি, জেদ যে আসল কথা, সেটা দেখিয়ে দিলেন বাণিজ্য শাখার ছাত্র রৌনকও। ভালবাসেন কবিতা লিখতে। কলকাতার শ্রীদৌলতরাম নোপানি হাই স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে ভর্তি হন সেন্ট লরেন্স হাই স্কুলে। তার পরে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা। কলেজে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। ২০১৬ সালে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেন। সর্বভারতীয় স্তরে স্থান ছিল পঞ্চম। তার পর বেসরকারি ব্যাঙ্কে চাকরির সুযোগ পেলেও তা না করে মনস্থির করেন, ইউপিএসসি–র পরীক্ষায় বসবেন।  
তঁার যা র‌্যাঙ্ক, তাতে তিনি ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিসে (‌আইএফএস) সুযোগ পেতে পারেন। তবে তঁার পছন্দ ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (‌আইএএস)। তিনি বলেন, ‘‌এমন পরীক্ষায় সাফল্য পেতে কঠোর পরিশ্রম তো অবশ্যই দরকার। তবে দরকার স্মার্ট ওয়ার্কও‌।’‌ স্মার্ট ওয়ার্ক কী?‌ ব্যাখ্যা করলেন, ‘‌কী ধরনের প্রশ্ন আসছে, প্রশ্নের ধরনে কী বদল আসছে, সেগুলি বোঝা দরকার। সারাক্ষণ শুধু পড়ে গেলেই হবে না।‌ নিজের দুর্বলতা বুঝে তা মেরামতির দিকে নজর দিতে হবে।’‌ আগের দু’‌বার এই পরীক্ষার প্রাথমিক স্তরে আটকে যান। এবার নিজের দুর্বলতা কাটাতেই সাফল্য। রৌনক মনে করেন, লেখাপড়ার সঙ্গে মোবাইল, ইন্টারনেটের কোনও বিরোধ নেই। বরং এগুলি ভাল কাজে লাগানো যেতে পারে। সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে বার বার আসছিল পরিবারের কথা। তঁাদের সাহায্য না পেলে সফল হওয়া যেত না, জানাচ্ছেন তিনি।

‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top