আজকালের প্রতিবেদন: ‘‌বুলবুল’–‌এর দাপটে শনিবার সকাল থেকে যেন গৃহবন্দি রইল কলকাতা শহর। রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন, বাজার শুনশান। রাস্তায় লোকজন নেই বললেই চলে। পথেঘাটে যাঁরা বেরিয়ে ছিলেন তাঁদের নাজেহাল হতে হয়েছে। বেলা গড়াতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। একে তো টানা বৃষ্টি, তায় ঝোড়ো হাওয়া। ছাতা থাকলেও হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না। সেইসঙ্গে যানবাহনের দেখা নেই। ফলে গন্তব্যে পৌঁছতে বেজায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁদের। বৃষ্টিতে ভিজে, অন্য দিনের থেকে বেশি সময়, টাকা খরচ করে যাতায়াত করতে হয়েছে। ঘূর্ড়িঝড় ‘‌বুলবুল’–‌এর জন্য কলকাতা–সহ ৭টি জেলার সব স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ঝড়বৃষ্টির জন্য বাজার বন্ধ থাকতে পারে, তাই অনেকে আগেভাগে বাড়িতে খাবারদাবার, জল মজুত করে রেখেছিলেন।
ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টি শুরু হয়েছিল শুক্রবার থেকে। এদিনও একই ছবি। বিরামহীন বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মহানগরীর জনজীবন। একটানা বৃষ্টির ফলে কলকাতার বিভিন্ন অংশে জল জমে গিয়েছিল। খিদিরপুর, এম জি রোড, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ–সহ আরও কিছু জায়গায় জল দাঁড়িয়ে যায়। ফলে এদিন সকালে যানবাহন চলাচলে অসুবিধা দেখা দেয়। তবে জল সরাতে তৎপর ছিল কলকাতা পুরসভা। চালানো হয়েছে অতিরিক্ত পাম্প। কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুমে উপস্থিত থেকে প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছিলেন কলকাতার মেয়র, রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। পুরসভার আধিকারিক, কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৎপর ছিল পুলিশ, প্রশাসন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় কী করা দরকার, সে–ব্যাপারে মানুষকে আরও সচেতন করতে রাজ্য সরকার লাগাতার প্রচার চালিয়েছে।
কলকাতার অনেক বাজার, দোকানের ঝাঁপ সকাল থেকেই বন্ধ রাখা ছিল। খোলেনি রাস্তার ধারের অনেক পাইস হোটেলও। তবে যে সব দোকান খোলা ছিল, সেখানে ক্রেতা মোটেও ছিল না। দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চ পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। দিনের বেলা তাও সামান্য কিছু যানবাহনের দেখা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু বেলা গড়াতেই সেগুলি রাস্তা থেকে যেন উধাও হয়ে গিয়েছিল। বিকেলের অবস্থা সকালের থেকে আরও খারাপ হয়ে দাঁড়ায়। ট্যাক্সি, অটো বেশি ভাড়া চেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই অভিযোগ উঠেছে অ্যাপ–নির্ভর ট্যাক্সির বিরুদ্ধেও। ‌

কলকাতায় ঘনঘটা। তুমুল বর্ষণ। শনিবার দুপুরে। ছবি: কুমার রায়

জনপ্রিয়

Back To Top