মলয় সিন্‌হা‌: ক্রিকেট, টেনিস, ফুটবলের মতো সারা দেশের আবেগ জড়িয়ে নেই এর সঙ্গে। হালের অনলাইন গেমসের রোমাঞ্চও নেই ঘুড়ি ওড়ানোর মধ্যে। তবুও জনপ্রিয়তায় পতঙ্গবাজির এখনও কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। বর্ষাকাল ছাড়া সারা বছর ঘুড়ি ওড়ানোর মরশুম। কলকাতা শহর থেকে গ্রামবাংলা, সর্বত্র এখনও ঘুড়ি ওড়ানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘‌চ্যাট’‌ করার পাশাপাশি, সমান তালে। তবে রংবেরঙের ঘুড়ি একদিনের রাজা হয়ে ওঠে অবশ্যই বিশ্বকর্মা পুজোর সময়। কিন্তু বালি, উত্তরপাড়ার মতো কিছু জায়গায় সরস্বতী পুজোর দিন ঘুড়ি ওড়ায় বাচ্চা থেকে বুড়ো, সবাই। খুশির ইদেও নতুন পাজামা–পাঞ্জাবি পরে ছেলের দলকে প্রবল উৎসাহে ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যায়। আর ভাদ্র মাসে বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে কলকাতায় ঘুড়ি ওড়ানো শুরু হয়ে যায় জুনের শেষ থেকে। তখন থেকেই সবার নজর আকাশপানে। 
ঘুড়ির এই মরশুম শুরু হতেই উত্তর কলকাতার ফড়িয়াপুকুর, মানিকতলা, এন্টালি মার্কেট, বৌবাজার, এবং দক্ষিণে মেটিয়াবুরুজ, গড়ফা রোড, যাদবপুর, ভবানীপুর, কালীঘাট–সহ অনেক এলাকায় অস্থায়ীভাবে ঘুড়ি–লাটাই–সুতোর পশরা সাজিয়ে বসে পড়েন দোকানিরা। পাশাপাশি পান–বিড়ির দোকানেও ঘুড়ি–লাটাই বিক্রি হতে দেখা যায়। এই তিন মাস ক্রেতার সংখ্যাও কম নয়। ময়ূরপঙ্খী, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, পেটকাটি, চৌকো ঘুড়ির পাশাপাশি প্লাস্টিক ঘুড়িও দোকানে প্রজাপতির মতো ঝলমল করে। পাশাপাশি বিক্রি হয় মাঞ্জা সুতো, লাটাই। কাঠের পাশাপাশি বিক্রি হয় ফাইবারের লাটাইও। 
ফড়িয়াপুকুরের ঘুড়ি বিক্রেতা সঞ্জয় বসাক জানালেন, ‘গত বছরের থেকে এবার বিক্রি ভাল। আবহাওয়া ভাল থাকলে বিক্রি আরও বাড়বে। দেশি মাঞ্জার চাহিদা বেশি।’‌ কোনও ক্রেতা ঘুড়ি–সুতো–লাটাই একসঙ্গে নিলে ডিসকাউন্টও পাওয়া যায়। ১০০০ গজ দেশি মাঞ্জা সুতো নিলে ৬০০ টাকা। ‌লাটাইয়ের দাম ৬০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আছে। ফাইবারের লাটাই ৫০ থেকে ১৫০ টাকা। ঘুড়ির সিজন শুরু হলেই নিয়মিত কিনতে আসেন অনেক ক্রেতা। আবার কেউ বিশ্বকর্মা পুজোর দুদিন আগে আসেন কিনতে। জানালেন আরেক বিক্রেতা শম্ভু সাহা।
বৌবাজার এলাকার ঘুড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা বিশু কাইটের কর্ণধার নীলমণি সেন জানান, ‘স্পেশ্যাল কোয়ালিটির ঘুড়ি তৈরি করি বলে বাজারে আমাদের সুনাম দীর্ঘদিনের। এবারে বিশ্বকর্মা পুজোর আগে থেকেই বিক্রির শুরুটা ভাল। আমাদের তৈরি ঘুড়ি বাজারে ৮ থেকে ২০ টাকা দামে বিক্রি করি।’‌ এখন শহরে এ ছবি দেখা যায়, পাকা রাস্তা থেকে গলি, বাড়ি, বহুতলের ছাদ, পাড়ার খেলার মাঠ থেকে ভেসে আসছে ছেলে–বুড়োদের সমবেত কণ্ঠে তীব্র চিৎকার ভোকাট্টা। হাওয়া থাকুক বা না থাকুক, রোদ উঠুক বা না উঠুক বিশ্বকর্মা পুজোয় ভাদ্রের আকাশ থাকে ঘুড়িতে রঙিন।‌‌‌‌

নেবুতলা পার্কের কাছে একটি ঘুড়ির দোকানে। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top