আজকালের প্রতিবেদন: বয়স সত্তর। কেএমডিএ–‌র অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ঝর্না মৈত্র। বিপদে পড়লে একাই দুষ্কৃতীদের মোকাবিলার ক্ষমতা রাখেন। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ‘‌সুকন্যা’‌ প্রকল্পে জেনেছেন আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ। শুধু এই বৃদ্ধাই নন, ১৩ থেকে ৭০, স্কুল–‌কলেজ পড়ুয়া, গৃহবধূ, চাকরিজীবী— বিভিন্ন বয়সের মহিলারা অংশ নিয়েছিলেন এই কর্মসূচিতে। রাস্তায় কেউ আক্রমণ করলে ক্যারাটে, জুজুৎসুর প্যঁাচে কীভাবে ধরাশায়ী করতে হয়, শিখেছেন হাতেকলমে। বইমেলার মুক্তমঞ্চে দর্শকদের সামনে এইসব শিক্ষার্থী দেখালেন মার্সাল আর্টের সাহায্যে আত্মরক্ষার কৌশল। অনুষ্ঠানে সফলদের হাতে শংসাপত্রও তুলে দিলেন বিধাননগর কমিশনারেটের কর্তারা।
ইভটিজিং–সহ মহিলাদের ওপর আক্রমণ হলে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, তার প্রশিক্ষণ শিবির চালু হয়েছিল বিধাননগর কমিশনারেটের উদ্যোগে। তিন মাস চলেছে মহিলাদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণের এই শিবির। বইমেলার অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ‘‌প্রদর্শন’‌ দেখে অত্যন্ত খুশি পুলিশকর্তারাও। শিক্ষার্থী সত্তর বছরের ঝর্না মৈত্র বললেন, ‘‌দুষ্কৃতীরা বয়স দেখে না। ৫ থেকে ১০০ সব বয়সি মহিলারাই তাদের ‘‌টার্গেট’‌। বিপদে পড়লে তাদের মোকাবিলা কীভাবে করব, সেই আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। নবীন প্রজন্মকেও বলছি, ‘‌ভয় পেয়ে পিছিয়ে না থেকে এগিয়ে এসো। আত্মরক্ষার জন্য এই প্রশিক্ষণ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’‌
বিধাননগর কমিশনারেটের উপনগরপাল (‌সদর)‌ অমিত পি জাভালগি বলেন, ‘‌সুকন্যা প্রকল্পে মূল উদ্দেশ্য হল মহিলাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো। অনভিপ্রেত ঘটনার মুখে পড়লে তাঁরা যাতে নিজেদের রক্ষা করতে পারেন। এদিন শিক্ষার্থীদের প্রদর্শন দেখে আমি আত্মবিশ্বাসী যে, তাঁরা সবরকম পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারবেন। পরবর্তিকালে স্কুল–‌কলেজে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’‌ অতিরিক্ত উপনগরপাল অনুরাধা মণ্ডল জানান, স্কুলের মেয়েদের আত্মরক্ষার পাঠ দিতে প্রথম সুকন্যা প্রকল্পে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল। পরবর্তিকালে গৃহবধূ, কর্মরত মহিলা–সহ সর্বস্তরের মহিলাদের এর আওতায় আনা হয়েছে। শুধু আত্মরক্ষা নয়, আমিও প্রতিবাদ–‌প্রতিরোধ করতে পারি, সেই মানসিক শক্তিও মহিলারা এই প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে পেয়েছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top