বিভাস ভট্টাচার্য- লকডাউনে নিজের কন্যাশ্রী–‌র টাকা নিয়ে দুঃস্থদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন হাওড়ার রিনা খাতুন। উদয়নারায়ণপুরের বেশ ক’‌জন অভাবী গ্রামবাসীর হাতে তুলে দিয়েছেন ডাল, ডিম, তেল, পেঁয়াজ, আলু আর সয়াবিনের মতো খাদ্যসামগ্রী। উদয়নারায়ণপুর টোকাপাড়ার বাসিন্দা বিএ তৃতীয় বর্ষের এই ছাত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করে তঁার পাশে দঁাড়িয়েছেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। করোনা অতিমারি এবং সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কর্মহীন ও এলাকার সর্বস্বান্ত গ্রামবাসীদের পাশে রিনার এই দঁাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে নিজের ইনস্টাগ্রামে ছবি–সহ রিনার প্রশংসা করেছেন তিনি। আগামীতেও যাতে এমন কাজ চালিয়ে নিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য পরমব্রত ও হাওড়ার প্রিয়নাথ মান্না বস্তি কমিউনিটি কিচেনের তরফে রিনাকে ২৫ হাজার টাকা সাহায্য করা হয়েছে। পরমব্রত লিখেছেন, ‘‌আমাদের তরফে একটি ক্ষুদ্র চেষ্টা, একটি মস্ত হৃদয়কে সামান্য সাহায্য করার।’‌ আপ্লুত রিনাও।
রিনার কথায়, লকডাউনে মানুষের দুর্ভোগ দেখে খুবই খারাপ লাগছিল। বিশেষ করে স্থানীয় পূর্বপাড়ার বেশ কয়েকজনের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। দিন–‌আনি দিন–‌খাই অবস্থা। রিনার এক বন্ধু একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যুক্ত। সেই বন্ধুকে রাজি করিয়ে ওই সংগঠনের তরফে পূর্বপাড়ার অভাবী মানুষদের সাহায্য করা হয়। রিনা বলেন, ‘‌আমি বুঝতে পেরেছিলাম, শুধু এ পাড়াতে দিলেই হবে না। আশপাশে আরও পঁাচটা পাড়া আছে, যেখানে বহু অভাবী লোকের বাস। তঁাদের পাশেও দঁাড়ানো উচিত। এর পর টাকার জন্য অনেককেই বলি। তবে খুব একটা সাড়া পাইনি। শেষমেশ ঠিক করি, কন্যাশ্রীর যে–‌টাকাটা পেয়েছিলাম, সেটাই এবার কাজে লাগাব। তা থেকেই খাদ্যসামগ্রী কিনে তা ৮০ জন লোকের হাতে তুলে দিয়েছি। আমাদের ঘরে যিনি কাজ করেন, তিনিই সাহায্য নেওয়ার জন্য এঁদের ডেকে নিয়ে এসেছিলেন।’‌
এর পরেই পরমব্রতর সঙ্গে তঁার যোগাযোগ। রিনা জানান, অনেককে ফোন করতে–‌করতে চেনাজানা একজনের কাছ থেকে নম্বর নিয়ে পরমব্রতকে ফোন করেন তিনি। পরমব্রত রিনার কাছে সবটা শোনেন। কয়েক দিন বাদে উদয়নারায়ণপুর থানা থেকে তঁাকে ডেকে পাঠিয়ে বলা হয়, পরমব্রত আর প্রিয়নাথ মান্না বস্তি কমিউনিটি কিচেনের তরফে তঁাকে টাকা পাঠানো হয়েছে। রিনা বলেন, ইদের আগের দিন থানা থেকে ওই ২৫ হাজার টাকা তঁার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যা দিয়ে খাদ্যসামগ্রী কিনে অভাবী মানুষদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এগিয়ে এসেছে হাওড়া পুলিশও। সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে তারা।
তিন দিদির বিয়ে হয়ে গেছে। বাবা, মা, ছোট বোনের সঙ্গে থাকেন রিনা। বাবা শেখ শাহ্‌ জামাল ব্যবসায়ী। মধ্যবিত্ত সংসার। ভবিষ্যতে প্রশাসনিক পদে চাকরি করতে চান রিনা। তঁার কথায়, ‘‌এই চাকরির মাধ্যমে আরও বেশি সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে পারব।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top