আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এবিভিপি–র তাণ্ডবে রণক্ষেত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কে পি বসু মেমোরিয়াল হলে এবিভিপি আয়োজিত নবীনবরণ উৎসবে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র যোগ দেওয়ার বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল এসএফআই। খবর পেয়ে নিজে গাড়ি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে রাজ্যপাল বাবুলকে তাঁর গাড়িতে তুলে নেন। এরপর রাজ্যপালকে ঘিরে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখালে এবিভিপির তাণ্ডব চরমে পৌঁছয়। ‘‌জয় শ্রী রাম ধ্বনি’‌ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে নির্বিচারে লাঠি, বাঁশ নিয়ে ভাঙচুর চালায় তারা। ভেঙে দেওয়া হয় গেটের পাশে দোকানগুলির হোর্ডিং। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় হোর্ডিং, পার্ক করে রাখা সাইকেলে। রাস্তাজুড়ে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে আগুন। খবর পেয়ে দমকল পৌঁছলেও এবিভিপি–র সদস্যদের তাণ্ডবে পিছিয়ে যায় তারা। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চার নম্বর গেটের কাছে এসএফআই–এর ইউনিয়ন রুমে ঢুকে চূড়ান্ত তাণ্ডব চালায়। ভেঙে দেয় কম্পিউটার, লাইট, ফ্যান, নোটিস বোর্ড, ছবি।

দেওয়ালজুড়ে লাল কালিতে এবিভিপি, ‘‌জয় শ্রী রাম’‌ লিখে দেয় এবিভিপি–র সদস্যরা। লাঠি চালাতে চালাতেই দাবি তোলে বাবুলকে বের করে আনতে হবে। দমকলের গাড়িতে উঠে পড়ে ‘‌জয় শ্রী রাম’‌ স্লোগান দিতে থাকে তারা। চার ন্বর গেট প্রায় ভেঙে ফেলার উপক্রম করে তারা। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিসবাহিনী। এরপর রাত আটটা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রাজ্যপাল। তারপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেট দিয়ে রাজ্যপাল এবং বাবুল সুপ্রিয়র কনভয় বেরিয়ে যায়। বাবুল এবং রাজ্যপাল বেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রাজা সুবোধ মলিক রোডের দখল নিয়ে নেয় এবিভিপি। এক পথচলতি যুবককে এসএফআই সদস্য মনে করে বেধড়ক মারধর করে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে আক্রান্ত হন এক পুলিসকর্মীও। এরপর রাত ৮.‌১৫ মিনিট নাগাদ পুলিস চার নম্বর গেট বন্ধ করে দেয়। তা সত্ত্বেও এবিভিপি–র দাপট চলতেই থাকে। রাত ৮.‌৩০ মিনিট নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় র‌্যাফ। তারপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ছবি:‌ এএনআই 

জনপ্রিয়

Back To Top