আজকালের প্রতিবেদন
আরও বেসরকারি বাস নামল পথে। নেমেছে আরও সরকারি বাস। আজ, শুক্রবার থেকে রাজাবাজার–হাওড়া রুটে ট্রাম চলাচলও শুরু হয়ে যাবে। পাশাপাশি আমফানের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার কচুবেড়িয়া, হাওড়ার গাদিয়াড়ার জেটি সংস্কারের পর ফেরি চলাচলও শুর হয়ে গেছে। পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ৩ হাজার ৮০০ বেসরকারি বাস কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় চলাচল করেছে। চলেছে ১৮০০ সরকারি বাস। সব মিলিয়ে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এদিন শহরের বেশ কিছু জায়গায় যাত্রীদের জন্য বাস অপেক্ষা করে থাকতে দেখা গেছে।
তিনি বলেন, আমফান–এ বেশ কিছু জায়গায় ফেরি ও কলকাতায় ট্রাম চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল। লাইন সংস্কারের পর আজ, শুক্রবার থেকে রাজাবাজার–হাওড়া রুটের ট্রাম চলাচল শুরু হয়ে যাবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপের কচুবেড়িয়া এবং হাওড়ার গাদিয়াড়ায় জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সংস্কারের পর বুধবার গাদিয়াড়া–নুরপুর এবং বৃহস্পতিবার কচুবেড়িয়া–লট ৮–এর ফেরি চলাচল শুরু হয়ে গেছে।
লকডাউন পরবর্তী সময়ে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণের জন্য আরও বেশি বাস চলাচলের লক্ষ্যে উদ্যোগী হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সংক্রমণ এড়িয়ে চলতে বাসে শুধুমাত্র বসে যাতায়াতের সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই ভাড়া বাড়ানোর দাবি তোলেন বেসরকারি বাস মালিকরা। বিকল্প হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাস পিছু ১৫ হাজার টাকা ৩ মাসের জন্য অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ‌তারপরও অনড় ছিলেন বাসমালিকরা। এরপরই কড়া মনোভাব নেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়ে দেন, ১ জুলাই থেকে পথে না নামলে বেসরকারি বাস নিয়ে নেবে রাজ্য সরকার। এরপর বুধবার থেকে নরম হন বেসরকারি বাস মালিকরা। পথে বাস বাড়ে। বৃহস্পতিবার আরও কিছু বাস বেড়েছে।
এদিন রাজ্য পরিবহণ দপ্তরে বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠনগুলি জট কাটাতে তাদের দেওয়া প্রস্তাব লিখিত আকারে জমা দেয়। পরে ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস–মিনিবাস অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপনারায়ণ বসু বলেন, ‘পরিবহণ দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে বুধবারের বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি বাসে সরকারি ‘‌‌ই’‌ বা এগজিকিউটিভ নন–এসি বাসের সমতুল্য ভাড়ার দাবি তুলেছেন। রাজ্য সরকার চাইলে চালক, কন্ডাক্টর–সহ বেসরকারি বাস অধিগ্রহণ করতে পারে। তার প্রস্তাবও দিয়েছি।’‌ জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা কর, পারমিট, সিএফ–এর ফি, জরিমানা মকুব, বিমার কিস্তিতে ছাড়ের দাবি করেছি। আবেদন করা হয়েছে ডিজেলের ওপর সেস মকুবের।’‌ তাঁর দাবি, লকডাউনে বহু বাসের চালক, কন্ডাক্টর জেলায়, ভিনরাজ্যে বাড়ি চলে গেছেন। এখন ফিরতে চাইছেন না, পারছেন না। ফলে আরও বাস পথে নামাতে সমস্যা হচ্ছে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top