শ্রাবণী গুপ্ত: কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র যাদবপুর। তার অন্যতম কারণ, এই কেন্দ্রের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। যাদবপুর মানেই নির্বাচনে ইন্দ্রপতন। আবার যাদবপুর মানেই নতুন মুখের উত্থান। যাদবপুর মানেই কোথাও যেন নিশ্চিত ভোটে পাশা উল্টে দেওয়া ফল। এই যাদবপুরেই এবার বাম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী, যিনি এই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক ও বটে!
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কেন্দ্র যাদবপুর। আবার ২০১১-য় এই কেন্দ্রেই হেরে যান তিনি। একটু পেছন ফিরলে, ১৯৮৪ তে এই যাদবপুরে জীবনে প্রথমবার লোকসভা ভোটে দাঁড়িয়ে দাপুটে সোমনাথ চ্যাটার্জিকে হারিয়ে দেন মমতা ব্যানার্জি। ১৯৮৯ সালে আবার রাজনীতির ময়দানে আনকোরা মালিনী ভট্টাচার্যের কাছে হেরে যান মমতা। গত বিধানসভা নির্বাচনে অর্থাৎ ২০১৬-তে এই কেন্দ্রেই বুদ্ধবাবুকে হারিয়ে দেওয়া প্রাক্তন আমলা মণীশ গুপ্ত হেরে যান সুজন চক্রবর্তীর কাছে।

 
এ তো গেল ইতিহাস। এবার কী হবে? সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সুজন চক্রবর্তী ছাড়া এই কেন্দ্রের বাকি দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদার এবং সদ্য বাম থেকে ‘রাম'-এ যাওয়া রিঙ্কু নস্কর। যাদবপুরে এবার মূল প্রশ্ন, বাম ভোট কতটা ভাগ হবে? কারণ অনেকেই বলছেন, এই কেন্দ্রে একদা সুজনের রাজনৈতিক শিষ্য রিঙ্কু কতটা ভোট কাটবেন তাই ঠিক করে দেবে শেষ হাসি কে হাসবেন।
aajkaal.in-এর মুখোমুখি হয়ে সুজন বললেন, ‘যাদবপুরের মানুষ রাজনৈতিক ভাবে সচেতন। তাই ভোট ভাগের ভয় নেই। বিজেপি, তৃণমূল দুই দলই সমান ক্ষতিকারক। বিকল্প শক্তি বাম। মানুষ সেটাই বেছে নেবেন'।
গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লকডাউন পর্বে যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন লক্ষাধিক মানুষকে অন্ন যুগিয়েছে দিনপ্রতি মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে। রাজনৈতিক মহলের মত, এটা যদি সুজনের প্লাস পয়েন্ট হয় তাহলে রাজ্য জুড়ে ওঠা বিজেপি হাওয়া এবং অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থীর স্বচ্ছ ইমেজ বাম প্রার্থীর কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়াচ্ছে।

জনপ্রিয়

Back To Top