সুকমল শীল: বিয়ের ভরা মরশুম। দুর্গাপুজোও বেশি দূরে নেই। কিন্তু এমন সময়েও বৌবাজারের সোনাপট্টিতে‌ তেমন ভিড় নেই। দাম বাড়তেই কমেছে সোনার গয়না বিক্রি। যা নিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তায় গয়না ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, সাধারণত এ সময়ে ক্রেতা উপচে প‌‌ড়ার কথা।
‌আমদানিতে শুল্ক বাড়ায় এবারের বাজেটে এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে সোনার দাম। সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসের ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২.৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে গ্রাম–প্রতি সোনার দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বেড়েছে। যে কারণে বৌবাজারের অধিকাংশ সোনার দোকানই কার্যত ফাঁকা। রক্ষিত জুয়েলারি মিউজিয়ামের প্রবীর রক্ষিতের কথায়, ‘‌অন্য বছর এ সময়ে নাওয়াখাওয়ার সময় থাকে না। এ বছর সারা দিন ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছি!‌’ জানালেন, শহরের বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের ৮টা গয়নার দোকান। সব ক’‌টাতেই তুলনামূলকভাবে ক্রেতা কমছে। বললেন, ‘‌এই সময় থেকেই গয়নার বাজার চাঙ্গা হয়। কিন্তু এ বছর কয়েকটা বড় দোকান ছাড়া বাকি দোকানিরা মাছি তাড়াচ্ছেন। এখন এমনিতেই যেটুকু না কিনলেই নয়, সেটুকু ছাড়া সোনা কেনা কমিয়ে দিয়েছেন মানুষজন।’‌ 
ডি কে বসাক জুয়েলার্সের কর্মী মনোজ সিং বললেন, ‘‌রাজ্যে এখন প্রোমোটারির রমরমা কমেছে। আগে প্রোমোটাররা প্রচুর সোনা কিনতেন। মোটা মোটা গলার চেন তৈরি করাতেন। কিন্তু এখন তাঁরাও সেই বিলাসিতা করতে পারছেন না। সাধারণ মানুষ দাম কমার অপেক্ষায় রয়েছেন। নেহাত দরকার না পড়লে সোনা কিনছেন না। দেখা যাক, কয়েক মাসে দাম একটু কমে কিনা।’‌ নাগেরবাজার থেকে গয়না কিনতে এসেছিলেন অঙ্কিতা সেন। জানালেন, ‘সামনেই মেয়ের বিয়ে। বাধ্য হয়েই এখন বেশি দামে গয়না কিনতে হচ্ছে।’‌ 
বৌবাজার এলাকায় ছোট, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০০টি গয়নার দোকান। ব্যবসায় মন্দা মেনে নিয়েছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ীই। ওঁরা জানাচ্ছেন, এ বছরের গোড়া থেকেই সোনা বিক্রিতে ভাটা। দু–‌একজন ব্যবসায়ীর‌ আশা, দুর্গাপুজোর আগে এই মন্দা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। বিক্রি বাড়বে। গিনি এম্পোরিয়ামের কর্ণধার তথা রাজ্যের ‘স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটি’র কার্যনির্বাহী সভাপতি বাবলু দে বললেন, ‘আমদানি শুল্ক আড়াই শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় ‌বিক্রি অনেকটাই কমেছে। কয়েক দিন আগে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিভিন্ন স্বর্ণশিল্পী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে। সমাধানসূত্র খোঁজা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা সরকারের কাছে যাব। কিছুদিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করছি।’‌ 
শনিবার কলকাতার বাজারে পাকা সোনার (‌২৪ ক্যারেট, ১০ গ্রাম)‌ দাম ছিল ৩৫,৫২৫ টাকা। গয়নার সোনা (২২ ক্যারেট, ১০ গ্রাম)‌ ৩৩,৭০৫ টাকা। রুপোর বাট প্রতি কেজি ৪০,৫৫০ টাকা। খুচরো রুপো প্রতি কেজি ছিল ৪০,৪৫০‌ টাকা।‌‌‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top