আজকালের প্রতিবেদন: শতাব্দীপ্রাচীন টালা ট্যাঙ্কের সংস্কারের কাজ ২০২০–‌র ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে ফেলা হবে। বুধবার কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম এ কথা জানিয়েছেন। এদিন টালা ট্যাঙ্কের সংস্কারের কাজ ঘুরে দেখেন মেয়র। ২০১৭ সালের মে মাসে টালা ট্যাঙ্কের সংস্কারের কাজ শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে চারটির মধ্যে মেরামতি শুরু হয় দক্ষিণ–পশ্চিমের প্রকোষ্ঠটির। এদিন ওই প্রকোষ্ঠটি মেরামতির পর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মহানাগরিক। ট্যাঙ্কের ভেতরে নেমে ঘুরে দেখেন। পরে জানান, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় শতাব্দীপ্রাচীন জলাধারটির বেহাল অবস্থা হয়েছিল। ১০০ বছরে কোনও মেরামতি হয়নি। লোহায় জং ধরে গেছে। মেরামত না করলে তা ভেঙে পড়ত। অমৃত প্রকল্প, রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় সংস্কারের কাজ শুরু হয়। এদিন থেকেই ওই প্রকোষ্ঠে জল সংরক্ষণ করা হবে। কাল, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে পাশের প্রকোষ্ঠটির কাজ। বাকিগুলির কাজও হবে। ৮০ কোটি টাকার প্রকল্প। ইতিমধ্যে ৪২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।’‌
ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই ট্যাঙ্কে রয়েছে চারটি প্রকোষ্ঠ, যাতে একটি বন্ধ হলেও বাকিগুলি থেকে জল সরবরাহ চালু থাকে। সংস্কারের ৮০ কোটি টাকার প্রকল্পের ৫৭ শতাংশ রাজ্য, ৩৩ শতাংশ কেন্দ্র আর ১০ শতাংশ দেবে কলকাতা পুরসভা। ২৮ মাসে কাজ শেষ হবে। ট্যাঙ্কের ভেতরে কী ধরনের রং ব্যবহার করা উচিত, সে–‌সম্পর্কে তামিলনাড়ুর সংস্থা সেন্ট্রাল ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিইসিআরআই) পরামর্শ নেওয়া হয়। টালা ট্যাঙ্কের ভেতরে যেখানে জল থাকে, সেখানে ফুড–‌গ্রেড রং অর্থাৎ মরচে–‌নিরোধক রং ব্যবহার করা হয়েছে। এই ট্যাঙ্ক থেকে হাইড্রোলিক সিস্টেমে প্রতিদিন সাড়ে চার কোটি গ্যালন জল ওঠা–‌নামা করে। এই ট্যাঙ্ক থেকেই জল সরবরাহ হয় উত্তর, মধ্য কলকাতায়। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর–‌রাসবিহারীতেও।
‌‌‌‌‌এদিন মেয়র মহম্মদ আলি পার্কের ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কের কাজও ঘুরে দেখেন। তিনি জানান, মহম্মদ আলি পার্কে বড় পুজো হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা আগামী সপ্তাহে এসে দেখে জানিয়ে দেবেন পার্কের কোন অংশ পুজো করা যাবে। সেভাবেই কাজ হবে। 

জনপ্রিয়

Back To Top