সমীর দে,ঢাকা: ভারতের নির্বাচনের প্রচারে অংশ নেওয়ার বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে দেশে ফিরেছেন নায়ক ফিরদৌস। দেশে ফিরে বুধবার একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। যেখানে ফিরদৌস বলেছেন, ভারতের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া তাঁর ভুল ছিল। চেয়েছেন ক্ষমাও।
ফিরদৌসের বলেছেন:‌ ‘আমি চিত্রনায়ক ফিরদৌস। অভিনয় আমার নেশা, পেশা। অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলা ভাষাভাষী সকলের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরির চেষ্টা করেছি। ভাবতে ভাল লাগে, আমি দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয়। দুই বঙ্গের মানুষের সংস্কৃতি, জীবনাচারে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। ভারত বহু কৃষ্টি–সংস্কৃতি সমৃদ্ধ একটি দেশ।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের অবদান আমরা কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করি। ভারতের জনগণের ত্যাগ–তিতিক্ষা আমাদের চিরঋণী করে রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহুদিনের। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী, সাহিত্যিকরা আমার বন্ধু। যাঁদের সঙ্গে আমি হৃদ্যতা অনুভব করি। তাই কারণে–অকারণে এখানে চলে আসি।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনের সময় আমি ভারতে ছিলাম। ভাবাবেগে তাড়িত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় সহকর্মীদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করি। এটা পূর্ব পরিকল্পিত ছিল না। কারও প্রতি বিশেষ আনুগত্য প্রদর্শন বা কোনও বিশেষ দলের প্রচারের লক্ষ্যে নয়, আবার কারও প্রতি অসম্মান প্রদর্শনও আমার উদ্দেশ্য ছিল না। ভারতের সকল রাজনৈতিক দল, নেতার প্রতি আমার সম্মান রয়েছে। আমি ভারতের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রতি আমার ভালবাসা অগাধ। সেই ভালবাসা আমাকে আবেগতাড়িত করেছে। আবেগের বশবর্তী হয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে অংশগ্রহণ আমার ভুল। যা থেকে অনেক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আমি স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে অন্য দেশের নির্বাচনি প্রচারে অংশগ্রহণ কোনওভাবেই উচিত নয়। অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট সকলে আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’‌
বাংলাদেশের আরেক অভিনেতা গাজি আবদুন নুরের বিরুদ্ধেও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফিরদৌসকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলেও তাঁর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। নুরের বিষয়ে বুধবার কলকাতায় বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান বলেন, তাঁকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top