শ্রাবণী গুপ্ত 

তিনি মুখ খুললেই বিতর্ক। দিলীপ ঘোষের সটান, সপাট জবাবের মধ্যে রাখঢাক থাকে না। কিন্তু নিন্দুকেরা বলেন, আদতে বাজার গরম করার জন্য বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে কখনও তিনি বলেছেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী বারমুডা পরুন’‌, কখনও আবার পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘‌হিন্দু নববর্ষ’‌। এর মাঝখানে আবার ঘটে গিয়েছে ‘‌শীতলকুচি’‌। যা নিয়ে দিলীপোচিত বক্তব্য রেখে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ২৪ ঘন্টা নির্বাচনী প্রচারের বাইরে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ।
 তা নিয়ে অবশ্য বিন্দুমাত্র  ক্ষোভ নেই তাঁর। টুইট করে গতকাল রাতে নিজেই জানিয়েছিলেন কমিশনের এই নির্দেশের কথা। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এদিন হালিশহর ও জগদ্দলে দুটি রোড শো ছিল তাঁর। স্বাভাবিকভাবেই যা বাতিল হয়েছে। তবে আজ সন্ধেবেলা কলকাতা বন্দরে নির্বাচনী সভা করবেন দিলীপ। 
ভোটের আবহে যখন সর্বত্র প্রচার তুঙ্গে, তখন বিজেপি রাজ্য সভাপতি একটা গোটা দিন প্রচারবিহীন কাটালেন। গতকাল রাত থেকে আজ দিনভর কী করলেন তিনি? জানা গেছে, সকালের রুটিন সবার আগে ভাঙতে হয়েছে আজ। এমনিতে কলকাতায় থাকলে, রোজ সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণ এবং কিছু যোগ ব্যায়াম নিয়মিত করে থাকেন দিলীপ ঘোষ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেখানেই একপ্রস্থ গল্পগুজব হয়। এরপরে নিউটাউনেই কোনও চায়ের দোকানে দুধ চা সহযোগে আরেক প্রস্থ জনসংযোগ। বিজেপির ভাষায় যা ‘‌চা চক্র’‌। এদিন এর  কোনটাই হয়নি। গতকাল রাত থেকে আজ দিনভর নিউটাউনে ‘‌ওমনি তুলসী’‌ আবাসনে কাটালেন তিনি। সূত্রের খবর, পরিচিত কিছু মানুষ বাড়িতে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করে যান। কিছু সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেন দিলীপ। তবে এক্ষেত্রে শর্ত ছিল, আজ রাতের আগে তাঁর কোনও সাক্ষাৎকার অথবা বক্তব্য প্রকাশ্যে আনা যাবে না। এরপরে দুপুরের নিয়মিত, নিয়ন্ত্রিত খাওয়া। কিছু ফোন। কিছু বইপত্রের পাতা ওল্টানো। জানা গেছে, বিকেলের পরেই একেবারে বাড়ি থেকে বের হবেন। 
এর আগে কমিশনের কোপে তৃণমূল নেত্রীও একদিন প্রচারের বাইরে ছিলেন। তবে মমতা ব্যানার্জি গান্ধী মূর্তির নিচে মুখে কালো কাপড় বেঁধে ছবি এঁকেছিলেন কমিশনের এই নির্দেশের প্রতিবাদে। দিলীপ ঘোষ সে পথে হাঁটছেন না। তবে আজ সন্ধে ৭ টার পর কলকাতা বন্দরের সভায় গিয়ে কী বলেন তিনি, সেদিকে সবার নজর থাকছে। কারণ ঘুরেফিরে সেই কথা, ‘‌দিলীপ ঘোষ মুখ খুললেই বিতর্ক’‌।

Back To Top