‌আজকালের প্রতিবেদন—মাঝেরহাটের ভেঙে–‌পড়া সেতুর বিকল্প যত দ্রুত সম্ভব তৈরি করা হোক। এ জন্য প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সাহায্য চাওয়া হোক। সেনাবাহিনীর দ্রুত সেতু বানানোর পরিকাঠামো আছে। দরকার হলে রাজ্য সেনাবাহিনীর বানানো সেতু দিয়ে আপাতত ইমার্জেন্সি কাজ চালাক। সরকার পরে ধীরেসুস্থে আর একটি বিকল্প সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিক। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এ কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যে যত সেতু আছে তার সব ক’‌টির পরিস্থিত খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টিম গড়া হোক। সেই টিমে প্রয়োজনে কোনও বিদেশি সেতু বিশেষজ্ঞকেও রাখা যেতে পারে। বৃহস্পতিবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই কথা বলে জানান, আমাদের দেশে আইআইটি–‌সহ বহু বড় প্রতিষ্ঠান থেকে ভাল ভাল ইঞ্জিনিয়ার বেরিয়েছেন। সেই সব ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তিবিদের সঙ্গে রাজ্য পরামর্শ করুক। পুরনো সেতুগুলির মেরামতির কাজ দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাংবাদিক সম্মেলনের পর দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া বিভিন্ন তথ্য নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন। দিলীপ ঘোষ বলেন, মাঝেরহাট সেতু কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ তৈরি করেছিলেন। পরে পূর্ত দপ্তরের হাতে তা দিয়ে দেন। হাওড়া সেতু হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে। হাওড়া সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কি ইংরেজদের ডাকা হবে?‌ সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থার মধ্যে মতপার্থক্য হলে মুখ্যমন্ত্রী তা বন্ধ করুন। কোন সেতু কবে তৈরি হয়েছে, সেতু কতটা ক্লান্ত, তা ঠিক করুন ইঞ্জিনিয়াররা। পিচ ঢেলে সেতুর ওজন বাড়ানো চলবে না। সেতুর ওপর দিয়ে ভারী পণ্যবাহী ট্রাক তো যাবেই। না হলে মানুষের কাছে অত্যাবশ্যক পণ্য পৌঁছবে কী করে?‌ 
দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন সেতুতে ফাটল ধরেছে। কেবল কলকাতা নয়, গোটা রাজ্যেই এমন বহু সেতু আছে যাতে ফাটল নজরে এসেছে। রাস্তা হোক বা সেতু— কোনওটার ওপরই কেবল পিচ চাপিয়ে খানাখন্দ বুজিয়ে দিলে চলবে না। তাপ্পি দেওয়া কাজ বন্ধ হোক। পাতাল রেলের কাজের জন্য মাঝেরহাট সেতু ভেঙে পড়েছে, সে কথা এখনও পর্যন্ত কোনও ইঞ্জিনিয়ার বলেননি। দেশে এবং রাজ্যে অনেক যোগ্য লোক আছেন। তাঁরা সরকারে না থাকলেও, সরকার তাঁদের সাহায্য নিতে পারে। সমস্যার গভীরে গিয়ে তা সমাধান করতে হবে। রাজ্যের সেতুগুলির অবস্থা নিয়ে রাজ্য বিজেপি কেন্দ্রকে জানাবে। কী করে সমাধান হতে পারে, তা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলবে। বিজেপি এ ব্যাপারে একটুও দেরি করতে চায় না। দেরি করলে আরও এমন ঘটনা ঘটবে।
রাজ্য জানিয়েছে, হকারদের জন্য শিয়ালদার সেতু মেরামত করা যাচ্ছে না। এ জন্য সরকারকেই হকারদের বোঝানোর দায়িত্ব নিতে হবে। হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top