দীপঙ্কর নন্দী: আজই রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অবস্থান তুলে নেওয়া হচ্ছে। সোমবার থেকে একই জায়গায় অবস্থানে বসছে তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস। শনিবার অবস্থান মঞ্চে সাংসদ ডেরেক ও’‌ব্রায়েন বাংলায় বক্তৃতা দিয়ে ছাত্রদের মাতিয়ে দেন। ডেরেক ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, ‘‌তিনটি জিনিস তোমাদের করতে হবে। এক, এনআরসি ও ক্যা নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। দুই, সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য ভালভাবে দেখতে হবে। তিন, সংসদে অভিষেক ব্যানার্জি যে বক্তৃতা দিয়েছেন, তা জোগাড় করে পড়তে হবে।’‌ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নাস্তানাবুদ করে দিয়েছিলেন অভিষেক। তিনি বলেছিলেন, আপনি তো একবারের সাংসদ। আমি দু’‌বার লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছি। নোটবন্দির মতোই এনআরসি ও ক্যা নিয়ে আমাদের দলনেত্রী প্রথম প্রতিবাদ করেন। তারপর অন্য রাজ্যে প্রতিবাদ হয়। বাংলায় একনাগাড়ে প্রতিবাদ চলছে। অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডেরেক বলেন, ‘‌সাহস থাকে কলকাতায় এসে অভিষেকের সঙ্গে ডিবেটে অংশ নিন।’‌ মঞ্চে না উঠলেও, এদিন ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন, দোলা সেন, অশোক রুদ্র, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। এছাড়া কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য গৌতম পাল, সুরেন্দ্রনাথ কলেজের অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল কর দর্শকাশনে বসে ছিলেন।
দুপুর থেকে অবস্থান মঞ্চে ভিড় বাড়তে থাকে। মঞ্চের সামনে নীচে রাস্তার ওপর বিরাট আলপনা আঁকা হয়। ছাত্রছাত্রীরা এনআরসি ও ক্যা–র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে নতুন নতুন স্লোগান লিখে পোস্টার আনেন। এদিনও বক্তব্য পেশ করেছেন ছাত্রছাত্রীরা। মমতার লেখা গান গেয়েছেন এক ছাত্র। এছাড়া সঙ্গীতও পরিবেশন করা হয়। মঞ্চ থেকে একটা সময় টানা স্লোগান দেওয়া হয়।  তাঁদের বক্তব্য, এনআরসি, ক্যা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত নেত্রীর নির্দেশে এই আন্দোলন চলবে। ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই মমতার আন্দোলন প্রসঙ্গ আনেন। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে বসতে পেরে কেউ কেউ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, নেত্রীর পাশে বসতে পেরে আমরা সত্যিই গর্বিত। তিনি আমাদের বক্তৃতা মন দিয়ে শুনেছেন। শুধু তাই–ই নয়, প্রশংসাও করেছেন। ভালভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। উৎসাহ দিয়েছেন। পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌এ ক’‌দিন বাংলার প্রায় সব কলেজ থেকে ছাত্ররা এসেছেন। তাঁদের মধ্যে উৎসাহ ও আবেগের কোনও অভাব ছিল না। স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। অনেকেই মঞ্চে বক্তব্য পেশ করে খুশি।’‌‌‌‌ যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও অবস্থান মঞ্চে ছিলেন। অন্যদিকে, ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি নেতাজি ইনডোরে ছাত্রদের নিয়ে কর্মশালার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ২৭–এ উপস্থিত থাকবেন দলনেত্রী, ২৮–এ গান্ধী মূর্তির নিচে বেশ কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে তিনি আঁকবেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top