অভিজিৎ বসাক- অর্ডার–‌করা সুস্বাদু খাবার কতক্ষণে পৌঁছোচ্ছে, সেটাই কলকাতার খাদ্যরসিকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ডেলিভারি বয়ের নাম, পরিচয়?‌ না‌, খাদ্যরসিকদের সে–‌সব জানার সময় কোথায়!‌ সে ইচ্ছেও নেই। কলকাতার নতুন–পুরনো ডেলিভারি বয়দের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেল। দিন কয়েক আগে জবলপুরে এক ডেলিভারি বয়ের নাম–‌পরিচয় দেখে অর্ডার বাতিল করেছিলেন জনৈক গ্রাহক অমিত শুক্লা। সেখান থেকে প্রায় সাড়ে এগারোশো কিলোমিটার দূরের শহরের ডেলিভারি বয়রা কিন্তু বুঝেছেন, এখানে তেমনটা ঘটার সম্ভাবনা নেই। অ্যাপ–নির্ভর খাবার সরবরাহকারীদের কাজের অভিজ্ঞতা অন্তত সে–‌রকমই বলছে। তঁাদের পেশায় ঝক্কি নেই?‌ অজস্র রয়েছে। চাকরির নিরাপত্তা, সময়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার তাড়া, নইলে খারাপ রেটিং পাওয়ার আশঙ্কা–‌সহ রয়েছে আরও অনেক ঝঞ্ঝাট। তবে পরিচয় নিয়ে এখানে কেউ সমস্যায় পড়েননি। 
অনলাইনে অর্ডার–‌করা খাবার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া পেশার এক নতুন দিক খুলে দিয়েছে। আগে ছিল বাইকে করে খাবার পৌঁছে দেওয়া। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইকেলও। অনেক তরুণ–তরুণী খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। বরানগরের অনীক চ্যাটার্জি এই কাজ করছেন আড়াই বছরেরও বেশি। বেশ কিছু সমস্যায় পড়তেও হয়েছে। যেমন খাবার দেরি করে দিলে মুশকিল, সন্দেহ নেই। আবার তাড়াতাড়ি করলেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। খাবার আদৌ পৌঁছেছিল তো?‌ এত–‌শত চিন্তা নিয়ে দিনে গড়ে ২০টি করে অর্ডার সারেন তিনি। তবে তঁার নাম–‌পরিচয় নিয়ে গ্রাহক প্রশ্ন তুলেছেন, অর্ডার বাতিল করে দিয়েছেন, এমনটা কখনও হয়নি। জবলপুরের ঘটনার কথা জেনেছেন। বললেন, ‘‌চাকরির নিরাপত্তা নেই, অনেক দূরে অর্ডার পৌঁছে দিতে হয়, ঠিক কথা। তবে নামধাম নিয়ে কখনও কোনও সমস্যা হয়নি।’‌ দুর্গাপুরের নীরজকুমার সিং মাস ছয়েক এ কাজে ঢুকেছেন। সেখানকার ডেলিভারি বয়ের আইডি বদল করে কলকাতায় করে নিয়েছেন। থাকছেন বিধাননগরের মহিষবাথানে। কলকাতা এবং দুর্গাপুর, দু’‌জায়গায় অনেক রকম গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন খাবার। তবে নিজের পরিচয় নিয়ে কখনওই অসুবিধে হয়নি। আরেক ডেলিভারি বয় সুরজিৎ মাকাল জানাচ্ছেন, বছরখানেক এই পেশায় এসেছেন। কাজ করেন নাইট শিফ্‌টে। অজস্র মানুষের কাছে খাবারের অর্ডার পৌঁছে দিয়েছেন। তবে, না, ওই পরিচয় নিয়ে কখনও কোনও গ্রাহক মাথা ঘামাননি। কলেজপড়ুয়া পিকলু মিস্ত্রি মাস দেড়েক ডেলিভারি বয়ের কাজে ঢুকেছেন। এপিজে আবদুল কালাম গভর্নমেন্ট কলেজে সাম্মানিক বাংলা‌ নিয়ে পড়ছেন দ্বিতীয় বর্ষে। বাড়ি নিউ টাউনের পোলেনাইট এলাকায়। খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় নাম বা পদবি নিয়ে কখনও কোনও গ্রাহক প্রশ্ন তুলেছেন, স্বল্প সময়ের কাজের অভিজ্ঞতায় এমনটা হয়নি। একই কথা জানালেন বিধাননগরের সুবীর সাহা, কেষ্টপুরের অর্জুন গুপ্তা। তঁারা বেশ কিছু দিন ধরে রয়েছেন ডেলিভারি বয়ের কাজে। সুবীর জানালেন, নাম–‌পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা তো দূরে থাক, বেশ কয়েকজন গ্রাহকের ব্যবহার মুগ্ধ করেছে। গরম কালে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর এমনও হয়েছে, অনেক গ্রাহক খানিক জিরিয়ে নিতে বলেছেন।‌

জোম্যাটোর ডেলিভারি বয়। ছবি: অভিজিৎ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top